তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৩:৫০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

চোখ বেঁধে গুলি, পেট চিড়ে সিমেন্টের বস্তা: গুমের মামলায় মেজর সাব্বিরের সাক্ষ্য

২০১০ সালের মে মাসে নজরুল ইসলামসহ চারজনকে পাথরঘাটার চরদুয়ানির বলেশ্বর নদীতে নিয়ে চোখ বেঁধে গুলি করে হত্যার পর তাঁদের পেটে চিড় ধরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে সাক্ষ্য দিয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর সাব্বির। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ গুমের মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি এ তথ্য জানান।

মেজর সাব্বিরের সাক্ষ্য অনুযায়ী, তৎকালীন র‍্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের প্রধান জিয়াউল আহসানের উপস্থিতি ও নির্দেশে র‍্যাব-৮-এর ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের সদস্যরা ওই হত্যাকাণ্ড ঘটান। চারজনকে একটি ফিশিং ট্রলারে করে পাথরঘাটার চরদুয়ানির বলেশ্বর নদীতে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের মুখ ও পুরো শরীর ঢেকে রাখা হয়েছিল বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন তিনি।

মেজর সাব্বির বলেন, নদীতে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁদের চোখ বেঁধে গুলি করা হয়। এরপর পেট চিড়ে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে তিনি প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ট্রাইব্যুনালকে জানান।

একই কায়দায় আরও একজনকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলেও সাক্ষ্য দেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা।

সাক্ষ্যে তিনি আরও জানান, ২০১১ সালে জিয়াউল আহসানের কথিত ‘গলফ অপারেশনে’ ব্যবহৃত ট্রলারগুলোর মাঝিদের মধ্যে আলকাস মাঝি নামের একজনকেও গুম করে হত্যা করা হয় বলে তিনি জানেন।

গুমের মামলায় এর আগে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূইয়া এবং সেনা ও র‍্যাবের কর্মকর্তারা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মেজর সাব্বিরের সাক্ষ্যের পর মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য নেওয়া হবে। এরপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৬ বছরে গুমের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম, যার বিচার শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে শতাধিক মানুষকে গুম করে হত্যার ঘটনায় তিনটি অভিযোগ এনে গত ১৭ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে ২০২৪ সালের আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি এর আগে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

 

মন্তব্য করুন