তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৪:৪৭ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট জারির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট জারির প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনের খসড়া বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভেটিংয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভেটিং-সংক্রান্ত প্রায় সব কাজ শেষ হয়েছে। অল্প কিছু কার্যক্রম বাকি রয়েছে, যা বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যেই শেষ করার চেষ্টা চলছে। এরপর গেজেট জারির পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, আর্থিক সক্ষমতা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর দ্রুত গেজেট প্রকাশের কথা থাকলেও প্রায় দুই সপ্তাহ পার হয়ে যাওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে অপেক্ষা তৈরি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

কার কত বেতন বাড়ছে

নতুন বেতন কাঠামোতে গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে। অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। গেজেট প্রকাশে সময় লাগলেও কার্যকর তারিখ পেছাবে না। তবে নতুন কাঠামোর মূল বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। কমিশন গত ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।

কমিশনের সুপারিশে বিদ্যমান সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা, যাতায়াত ভাতা ও অন্যান্য ভাতা সংস্কারের সুপারিশও ছিল।

পরবর্তী সময়ে মন্ত্রিসভায় নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয় এবং ৩১ আগস্ট তা অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারির প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হয়।

আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হলে গেজেট জারির পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।

মন্তব্য করুন