প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৪:৫১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার পান্নার দেশ-বিদেশের সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও অর্থপাচার-সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের সই করা চিঠিটি পাঠানো হয়। এতে আসিফ মাহমুদ, তার স্ত্রী এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির দেশে ও বিদেশে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য এবং অর্থপাচার-সংক্রান্ত নথি সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দুদকের নথি অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, দেশে কোম্পানি গঠন, বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ ও অর্থপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগের কথা উল্লেখ রয়েছে। এসব অভিযোগের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বিএফআইইউর কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বাংলাদেশে থাকা বিভিন্ন ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আসিফ মাহমুদ, তার স্ত্রী এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাব, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, লকার, ঋণ, সঞ্চয়পত্র, এফডিআর ও ডিপিএসসহ বিভিন্ন আর্থিক পণ্যের তথ্য রয়েছে। সংশ্লিষ্ট হিসাবের লেনদেন ও রেকর্ডও সংগ্রহ করে পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে।
দুদকের চিঠিতে পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডে জমি কেনা, অর্থপাচার এবং শেল কোম্পানি গঠনের অভিযোগের বিষয়েও তথ্য চাওয়া হয়েছে।
এসব দেশে আসিফ মাহমুদ বা তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা কোম্পানির কোনো বিনিয়োগ, ব্যাংক হিসাব বা সম্পদ রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট দেশের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যাচাইয়ের উদ্যোগ নিতে বিএফআইইউকে অনুরোধ করা হয়েছে।
দুদক বলছে, বিদেশে বিনিয়োগ, ব্যাংক হিসাব ও সম্পদসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে কমিশনের অনুসন্ধানে সরবরাহের জন্যই এই অনুরোধ করা হয়েছে।
এর আগে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিতে অনিয়মের অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তার দায়িত্বকালে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির নথি চাওয়া হয়।
পরে ১৩ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তের কথা জানায় দুদক। এসব অভিযোগের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নিয়োগ, বিভিন্ন জেলায় ডিসি পদায়ন, টেন্ডার প্রক্রিয়া, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প, ঘুষ ও অর্থপাচারের বিষয় রয়েছে। বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগও অনুসন্ধানে যুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।
তবে দুদক জানিয়েছে, এসব অভিযোগ এখনো অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে। দুদক সচিব সাইদুর রহমান খানও বলেছেন, অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু বলার সুযোগ নেই।
আসিফ মাহমুদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি এর আগে দুদকের অনুসন্ধানকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি ও ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-এর অংশ বলে অভিযোগ করেন। দুদক অবশ্য অনুসন্ধানটি কাউকে ‘টার্গেট’ করে করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ নাকচ করেছে।
মন্তব্য করুন