আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ ঘন্টা আগে, ১১:১০ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ওরা পশ্চিমবঙ্গকে ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ বানাতে চায়: শুভেন্দু

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের সাবেক বামফ্রন্ট ও তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ‘সনাতনী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি’ দমনের চেষ্টা করার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, বাম আমলে ধর্মীয় চর্চাকে গুরুত্ব দেওয়া হতো না এবং তৃণমূলের শাসনামলে বাংলার সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পরম্পরায় পরিবর্তন আনার চেষ্টা হয়েছিল।

শনিবার কলকাতার কেষ্টপুরে একটি গণেশ পূজা মণ্ডপ উদ্বোধন করে এসব মন্তব্য করেন শুভেন্দু। তিনি গত ৪৯ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, এর মধ্যে ৩৪ বছর বামফ্রন্ট এবং পরবর্তী ১৫ বছর তৃণমূল রাজ্য শাসন করেছে। তাঁর অভিযোগ, এই দীর্ঘ সময়ে বাংলার সাংস্কৃতিক পরিচয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শুভেন্দু বলেন, বাম আমলে ধর্মকে ‘আফিম’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তাঁর দাবি, পূজা মণ্ডপের আশপাশের বইয়ের স্টলে কার্ল মার্কস ও ভ্লাদিমির লেনিনের বই পাওয়া গেলেও স্বামী বিবেকানন্দ, লোকনাথ বাবা, হনুমান চালিশা বা ভগবত গীতার মতো ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক বিষয়ক বই দেখা যেত না।

তবে এগুলো শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগ। বক্তব্যের পক্ষে তিনি অনুষ্ঠানে কোনো নির্দিষ্ট নথি বা পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট নয়।

তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘জামাতিকরণ’-এর অভিযোগ

তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধেও সরব হন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, দলটির ১৫ বছরের শাসনের শেষদিকে বাংলাকে ‘জামাতি’ করার চেষ্টা হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে তিনি দুর্গাপূজার বিসর্জনের দিন পরিবর্তনের একটি ঘটনার উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, মহরমের কারণে একবার বিজয়া দশমীর দিনে দুর্গাপ্রতিমার বিসর্জন নিয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। শুভেন্দুর ভাষ্য অনুযায়ী, এতে বাংলার প্রচলিত ধর্মীয় পরম্পরা পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রচলিত পঞ্জিকা ও পরম্পরা অনুসরণ করা উচিত। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের সময়ে ধীরে ধীরে বাংলার ঐতিহ্য ও ধর্মীয় রীতিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হয়েছিল।

পূজার সময় নিয়েও মন্তব্য

অনুষ্ঠানে দুর্গাপূজার সময় ও ধর্মীয় রীতি নিয়েও মন্তব্য করেন শুভেন্দু। তিনি পিতৃপক্ষ ও মাতৃপক্ষের পার্থক্যের কথা তুলে ধরে বলেন, দুর্গাপূজার উদ্বোধন মাতৃপক্ষে হওয়া উচিত।

একই সঙ্গে জেলে থাকা এক সাবেক রাজ্য মন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিতৃপক্ষের সময়ে ওই মন্ত্রীর দুর্গাপূজার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। সনাতনী রীতি অনুযায়ী পিতৃপক্ষকে পূজার জন্য অনুপযুক্ত সময় হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

মহাষ্টমীর সময় পূজায় ‘পূর্ণ শুদ্ধতা’ বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন শুভেন্দু।

রাজনৈতিক বক্তব্য ঘিরে বিতর্কের সম্ভাবনা

শুভেন্দুর এসব মন্তব্য পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ধর্ম, সংস্কৃতি ও পরিচয়ভিত্তিক বিতর্ককে নতুন করে সামনে আনতে পারে। বিশেষ করে বামফ্রন্ট ও তৃণমূল—দুই রাজনৈতিক শিবিরের দীর্ঘ শাসনকালকে একই বক্তব্যে সমালোচনা করে তিনি বর্তমান সরকারের সাংস্কৃতিক অবস্থানকে তার বিপরীতে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।

তবে তাঁর বক্তব্যের বিভিন্ন অংশ রাজনৈতিক অভিযোগের ভিত্তিতে করা। ফলে বাম ও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া এলে তা-ও বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

শুভেন্দুর বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল—পশ্চিমবঙ্গের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করা প্রয়োজন এবং তাঁর মতে, বর্তমান সরকার সেই কাজ করছে।

মন্তব্য করুন