তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ৯ মে, ২০২৬, ১২:৩৮ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

বনানী সুপারমার্কেট প্রকল্পে অনিয়ম

ইউনিক গ্রুপের নূর আলী ও তার নির্মাণপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সিআইডির মানিলন্ডারিং মামলা

সংগৃহীত ছবি

বনানীর সরকারি জমিতে অনুমোদনহীন ভবন তুলে পাঁচ তারকা হোটেল পরিচালনার মাধ্যমে শতকোটি টাকা পাচারের অভিযোগে আইনী জটিলতার সম্মুখীন ইউনিক গ্রুপের কর্ণধার নূর আলী। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নূর আলী এবং তার প্রতিষ্ঠান বোরাক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করেছে।

গত ৭ মে বনানী থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ৪(২)/৪(৪) ধারায় মামলাটি (নং-১১) রুজু করা হয়। সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে অবৈধভাবে ১১৫ কোটি ৫৮ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা মানিলন্ডারিংয়ের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নিয়ন্ত্রিত বনানীর সরকারি জমিতে 'বনানী সুপার মার্কেট কাম হাউজিং' প্রকল্পকে কেন্দ্র করে। চুক্তি অনুযায়ী সেখানে ১৪ তলা ভবন নির্মাণের কথা থাকলেও বোরাক রিয়েল এস্টেট কোনো অনুমোদন ছাড়াই ২৮ তলা ভবন নির্মাণ করে। পরে সেই ভবনেই গড়ে ওঠে পাঁচ তারকা হোটেল 'শেরাটন'।

শুধু অননুমোদিত নির্মাণই নয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ না করে এবং ডিএনসিসিকে প্রাপ্য অংশ না দিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রভাব খাটিয়ে চুক্তি সংশোধন করানোর অভিযোগও রয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।

রাজউক ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) না নিয়েই ভবনটি নির্মিত হওয়ায় এর উচ্চতা নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এতে ওই এলাকায় বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুসন্ধানকারীরা জানিয়েছেন, অননুমোদিত ভবনে হোটেল পরিচালনা করে অর্জিত অর্থ পরে হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে। বেদখলকৃত সম্পদের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণের পর মোট লন্ডারকৃত অর্থের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা।

বর্তমানে মামলাটি সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও অপরাধের পূর্ণাঙ্গ চিত্র উদঘাটনে তদন্ত ও অভিযান চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

মন্তব্য করুন