প্রকাশিত: ১৮ ঘন্টা আগে, ০৯:৩৪ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ভারতের উত্তর প্রদেশের বিজনোর জেলায় মাইকে আজান দেওয়ার অভিযোগে মোহাম্মদ ফাইজান নামে এক মুয়াজ্জিনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত শনিবার নাজিবাবাদ এলাকায় একটি গণশুনানিতে যাওয়ার পথে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উমেশ প্রতাপ সিং ও পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই একটি মসজিদ থেকে আজানের আওয়াজ শুনতে পান। এরপরই পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঘটনার পর পুলিশ মসজিদের মাইক জব্দ করে। পাশাপাশি শব্দসীমা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে দায়িত্বে থাকা এক বিট কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এ ঘটনার পর বিজনোর জেলার সব থানার জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে পুলিশ প্রশাসন। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি থানাকে তাদের এলাকার ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে ব্যবহৃত মাইক নির্ধারিত শব্দসীমার মধ্যে চলছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে প্রত্যয়নপত্র বা হলফনামাও জমা দিতে হবে।
জানা গেছে, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উমেশ প্রতাপ সিং ও পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই ‘সমাধান দিবস’-এর একটি শুনানিতে অংশ নিতে মহল্লা মাকবারা এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় একটি মসজিদ থেকে আজানের আওয়াজ শুনে পুলিশ সুপার কোতোয়ালি পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
নির্দেশনা পেয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অমিত কুমার মালিক মসজিদে গিয়ে মাইকটি জব্দ করেন এবং মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ ফাইজানকে আটক করেন।
পরে উপপরিদর্শক সৌরভ কুমারের আবেদনের ভিত্তিতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ফাইজানের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করা হয়। পাশাপাশি শান্তি ভঙ্গের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। তাঁকে উপবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে, নিজ এলাকায় শব্দসীমা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে বিট কনস্টেবল ললিত কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিজনোরের সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিজ নিজ এলাকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাইকের ব্যবহার নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ভবিষ্যতে এ ধরনের বিধিনিষেধ লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বিট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ প্রশাসন।
বিজনোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কৃষ্ণ গোপাল সিং জানিয়েছেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ও আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলাজুড়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ধর্মীয় স্থানে নির্ধারিত শব্দসীমার বাইরে লাউডস্পিকার ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দেখভালকারীদের নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং নিজ নিজ এলাকায় বিষয়টি নিশ্চিত করতে পুলিশ কর্মকর্তাদেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
মন্তব্য করুন