প্রকাশিত: ৫৭ মিনিট আগে, ০৯:৩১ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় আমুর অঞ্চলে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সংবাদ সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ইউক্রেনকা বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিমানটি ক্রাসনোইয়ারোভো শহরের কাছে বিধ্বস্ত হয়। মাটিতে আছড়ে পড়ার পর বিমানের জ্বালানি ট্যাংকে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়।
চীন সীমান্তবর্তী আমুর অঞ্চলের একটি জনবসতিহীন এলাকায় প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় ‘টিইউ-৯৫’ মডেলের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। তবে দুর্ঘটনার সময় বিমানটিতে কোনো গোলাবারুদ ছিল না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর বরাতে জানা গেছে, দুর্ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ‘অ্যারোস্পেস ফোর্সেস’-এর একটি কমিশনকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পরের পরিস্থিতি বলে দাবি করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে জ্বলন্ত বিমান থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে।
দুর্ঘটনায় বিমানটির এক ক্রু সদস্য আহত হয়ে বেঁচে গেছেন। মাঝারি ধরনের আঘাত নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জরুরি উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
‘তুপোলেভ টিইউ-৯৫’ সোভিয়েত আমলের একটি বড় আকারের বোমারু বিমান, যা পারমাণবিক অস্ত্র বহন ও নিক্ষেপে সক্ষম। বিমানটি ১৯৫২ সালে প্রথম আকাশে ওড়ে এবং ১৯৫৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হয়। রাশিয়ার সামরিক বাহিনী এখনো বিমানটি ব্যবহার করে, বিশেষ করে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সামরিক মহড়ায়।
রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলে বিমান দুর্ঘটনার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। গত বছরের জুলাইয়ে খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে তিনদা শহরের পথে একটি ‘আন্তোনভ এএন-২৪’ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে বিমানে থাকা ৪৮ জনের সবাই নিহত হন। এছাড়া ২০২১ সালের আগস্টে কামচাটকা উপদ্বীপে ১৬ আরোহী নিয়ে একটি ‘মিল মি-৮’ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছিল।
মন্তব্য করুন