আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বার, ২০২৬, ০৪:২১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

নিউইয়র্কে বিল ও হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে দেখা করলেন মুহাম্মদ ইউনূস

নিউইয়র্কে ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভের (CGI) ২০২৬ সালের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সম্মেলনের আয়োজকদের প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের বার্ষিক সম্মেলন এবং এতে ইউনূসও অংশ নিচ্ছেন।

সম্মেলনের একটি মূল পর্বে বক্তব্য দেওয়ার জন্যও ইউনূসকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আয়োজকদের কর্মসূচিতে তাঁকে ‘How Do We Get It Right?’ শীর্ষক মূল পর্বের বক্তাদের একজন হিসেবে রাখা হয়েছে।

বিল ক্লিনটনের সঙ্গে ইউনূসের যোগাযোগ শুরু হয় তাঁর আরকানসাসের গভর্নর থাকার সময়। ইউনূসের নিজের বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৮০-এর দশকে ক্লিনটন তাঁকে আরকানসাসে আমন্ত্রণ জানান এবং সেখানে গ্রামীণ ব্যাংকের মডেল অনুসরণ করে ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়।

বিল ক্লিনটন নিজেও পরে বলেছেন, গভর্নর থাকার সময় তিনি ও হিলারি ক্লিনটন প্রথম ইউনূসের সঙ্গে পরিচিত হন এবং তাঁর ধারণা তাঁদের আরকানসাসে ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করেছিল।

এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় আরকানসাসে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসা ও স্বনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে গ্রামীণ ব্যাংকের মডেল অনুসরণ করে কর্মসূচি গড়ে ওঠে।

বাংলাদেশের সঙ্গে ক্লিনটন পরিবারের এই সম্পর্কের আরেকটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় ১৯৯৫ সালের সফর। ওই বছর হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন মেয়ে চেলসি ক্লিনটনকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ সফর করেন। ক্লিনটন প্রেসিডেনশিয়াল লাইব্রেরির নথি অনুযায়ী, সফরের সময় তাঁরা ঢাকায় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ৩ এপ্রিল যশোরে একটি গ্রামীণ ব্যাংক গ্রাম পরিদর্শন করেন।

সেসময় হিলারি ক্লিনটন গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা নারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে তাঁদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পারিবারিক জীবনে যে পরিবর্তন এসেছে, সে বিষয়ে জানতে পারেন। সমসাময়িক ইউপিআই প্রতিবেদনে তাঁর ওই সফরে গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম ও নারী ঋণগ্রহীতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এবার নিউইয়র্কে ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভের বার্ষিক সম্মেলনে ইউনূসের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের সেই যোগাযোগের আরেকটি পর্ব সামনে এসেছে।

মন্তব্য করুন