প্রকাশিত: ৫৭ মিনিট আগে, ০৪:৪৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সহজীকরণের স্বার্থে ভারতে অবস্থানরত পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যান্য আসামিদের ফেরত দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি ও সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের এ অবস্থান তুলে ধরেন।
ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতেও বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাসহ ভারতে পলাতক সব আসামিকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক জোরদারের স্বার্থে ভারত সরকারকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শেখ হাসিনার পাশাপাশি ওবায়দুল কাদেরসহ অন্য আসামিদের ফেরত চাওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনাকে চাওয়া হলে ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যদেরও ফেরত চাওয়া হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক সহজীকরণের স্বার্থে এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পলাতক আসামিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তারা দেশের বাইরে থেকে বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন, যা বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করছে। ভারত সরকার বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতি ও সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে তাদের হস্তান্তর করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের অপরাধের বিচার নিশ্চিত করাকে বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। অভিযুক্ত যে কেউ বিচার পাওয়ার স্বার্থে আদালতে আসতে পারেন এবং দেশের বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন স্বাধীন হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সিদ্ধান্ত সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।
তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশন সমন্বয় করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন পুরোপুরি অংশগ্রহণমূলক হবে এবং সেখানে কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১০ হাজার কর্মী বিনামূল্যে যাওয়ার বিষয়টি সঠিক।
সরকারি অফিসে নাগরিকদের ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করার বিষয়টিকেও তিনি আলোচনায় আনেন। কোনো অফিসে ‘স্যার’ বলাকে বাধ্যতামূলক না করে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের মানসিকতার পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এর সঙ্গে বহু মানুষের জীবিকা ও যাতায়াত জড়িত। তাই সরকার এগুলো একবারে বন্ধ করতে চায় না। তবে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ও রুটের আওতায় আনতে দ্রুত একটি নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. আলম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন