প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১০:৪৪ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে প্রায় ১১ কোটি টন ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিক আবিষ্কারের দাবি করেছে দেশটি। সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান জানিয়েছেন, মদিনার জাবাল সায়িদ প্রকল্প এলাকায় অনুসন্ধান ও ভূতাত্ত্বিক জরিপের মাধ্যমে এই আকরিকের সন্ধান পাওয়া গেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন গণমাধ্যম মন্ত্রীর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
সৌদি গণমাধ্যম আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবিষ্কৃত আকরিকে ভারী বিরল খনিজ পদার্থের উচ্চ ঘনত্ব রয়েছে। পাশাপাশি এতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইউরেনিয়ামের উপস্থিতিও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সৌদি আরব দীর্ঘদিনের তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদের বৈচিত্র্য বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটির যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচির আওতায় ইউরেনিয়াম উত্তোলন এবং বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে মদিনায় পাওয়া আকরিকে ঠিক কতটুকু ইউরেনিয়াম রয়েছে এবং এর কতটা বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য—তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত অনুসন্ধান ও মূল্যায়ন প্রয়োজন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই সৌদি আরবের এই ঘোষণা এসেছে। সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। একই সময়ে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের তৎপরতার কারণে লোহিত সাগরে সৌদি আরবের সামুদ্রিক যোগাযোগ নিয়েও চাপ রয়েছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উদ্বেগ রয়েছে। তাদের দাবি, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচির মাধ্যমে অস্ত্র তৈরির দিকে এগোচ্ছে। তবে তেহরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
মদিনায় ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিক আবিষ্কারের দাবি এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা জোরদার হয়েছে। গত জুলাইয়ে দুই দেশ একটি দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা চুক্তির পাশাপাশি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তি সই করে।
ওই চুক্তির আওতায় মার্কিন কোম্পানিগুলো সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব সরাসরি মার্কিন তদারকি ছাড়াই নিজ ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মদিনায় আবিষ্কৃত আকরিকের প্রকৃত ইউরেনিয়াম মজুত এবং বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য পরিমাণ নির্ধারণে আরও অনুসন্ধান ও মূল্যায়নের প্রয়োজন হবে।
মন্তব্য করুন