প্রকাশিত: ৫৭ মিনিট আগে, ০৪:৫২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) কর্মচারী প্রধান (সিওপি) আ.ন.ম. শরীফুল আলমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক অনিয়ম, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন, অর্থ আত্মসাৎ ও পদায়নে আর্থিক দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া বিগত সরকারের সময় থেকে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিসিআইসিতে প্রভাব বিস্তার এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছে।
গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রচারিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ‘বিসিআইসি জাতীয়তাবাদী অফিসার্স ফোরাম’-এর সভাপতি মোঃ দেলোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবদুল মতিন এসব অভিযোগ করেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জ্যেষ্ঠতা তালিকা লঙ্ঘন করে আ.ন.ম. শরীফুল আলম কর্মচারী প্রধান (সিওপি) পদে নিয়োগ পান এবং বর্তমানেও তিনি সেই পদে বহাল রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বিসিআইসির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মচারী নিয়োগ, বদলি ও বাসা বরাদ্দে আর্থিক লেনদেনের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া দাপ্তরিক ভ্রমণের দোহাই দিয়ে দলবলসহ ব্যক্তিগত ও সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের নামে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিগত সরকারের আমলে তিনি নিজের পিতাকে কৃষক লীগের থানা পর্যায়ের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিয়ে সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেন এবং ১৫ আগস্ট উপলক্ষে ‘হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু উদযাপন কমিটি’র আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার সরাসরি সংশ্লিষ্টতার অনেক ছবি ও প্রমাণাদি প্রেস বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি রাতারাতি মতাদর্শ বদলে বিএনপি-সমর্থক সেজে বিসিআইসি জাতীয়তাবাদী অফিসার্স ফোরামের কার্যক্রম বিঘ্নিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হন।
অভিযোগে বলা হয়, কৌশলগতভাবে সংগঠনের সহ-সভাপতি পদ বাগিয়ে নিয়ে তিনি ফোরামের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক হয়রানিমূলক তদন্ত কমিটি গঠন করেন এবং সর্বশেষ সংগঠনটির বৈধতা ও অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তার মনমতো ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এমনিভাবে শরীফুল আলম জাতীয়তাবাদী অফিসার্স ফোরামকে অস্তিত্ব সংকটে ফেলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসব ঘটনায় প্রতিষ্ঠানে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হওয়ায় কর্মপরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে শিল্পমন্ত্রী, শিল্প সচিব এবং বিসিআইসির চেয়ারম্যান বরাবরে শরীফুল আলমকে সিওপি পদ থেকে প্রত্যাহার, সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বিষয়টি নিরপেক্ষ ও অনুসন্ধানী তদন্তের মাধ্যমে আওয়ামী দোসর শরীফুল আলমকে সিওপি পদ থেকে দ্রুত প্রত্যাহার করে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন