তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৪:১৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া সবার সভা-সমাবেশের অধিকার আছে: আইনমন্ত্রী

নিষিদ্ধ সংগঠন ব্যতীত দেশের যেকোনো নাগরিক বা রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ করা এবং সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি স্পষ্ট জানান, দেশের মানুষ যেন কোনো ভয়ভীতি ছাড়া স্বাধীনভাবে কথা বলতে ও মতামত প্রকাশ করতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম সাংবিধানিক দায়িত্ব।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক জাতীয় সেমিনারে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মানবাধিকার সংস্থা ও গুম সংক্রান্ত আইনি কাঠামোর অগ্রগতি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী জানান, মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়ায় কিছু প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা বিদ্যমান রয়েছে। এ কারণে আইন দুটি অধিকতর যাচাই-বাছাই ও সংশোধন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংশোধন সম্পন্ন করার পরেই তা আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে।

সাংবিধানিক রূপরেখা ও সংস্কারের বিষয় নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান যতদিন বলবৎ থাকবে, ততদিন প্রয়োজন অনুসারে এর সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। তবে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত কমিটির সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা এবং খসড়া তালিকা এখনো সরকারের কাছে এসে পৌঁছায়নি।

দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের লক্ষ্য তুলে ধরে আসাদুজ্জামান বলেন, "আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই, পেছনে যেতে চাই না। আমাদের ভুল হতে পারে, তবে আমরা নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা মূলত জুলাই সনদের পথ ধরেই এগিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।"

বাহাত্তরের সংবিধান পুরোপুরি বাতিল বা বর্জনের বিষয়ে চলা নানা আলোচনার প্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, অনেকেই বাহাত্তরের সংবিধান ছুড়ে ফেলে দেওয়ার কথা বলেছিলেন, তবে সংবিধান সংস্কারের যেকোনো উদ্যোগ নিতে হলে বর্তমান বাহাত্তরের সংবিধানকে সামনে রেখেই এগোতে হবে। কারণ দেশের বর্তমান আইনি কাঠামোতে বাহাত্তরের সংবিধানই বলবৎ ও কার্যকর রয়েছে।

তিনি আরও যোগ করেন, সংবিধান ও সংস্কারের প্রক্রিয়ায় যেসব প্রস্তাব ও মতামত উঠে আসবে, সেগুলোর যৌক্তিকতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা বিবেচনা করে গ্রহণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে সংবিধান ও সার্বিক সংস্কার ভাবনাকে অবাস্তব না রেখে বাস্তবসম্মত দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করার ওপর জোর দেন তিনি।

মন্তব্য করুন