প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ১০:৩৩ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

আবারও ইরানি প্রতিনিধিদের মুখোমুখি হচ্ছেন জেডি ভ্যান্স: লক্ষ্য শান্তি চুক্তির

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভয়াবহ উত্তেজনা নিরসনে এবং একটি টেকসই শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় আবারও নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহের মধ্যে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বিশেষ কূটনৈতিক দলে আরও থাকছেন তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার। যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই এই দলটি পর্দার আড়ালে কাজ করে যাচ্ছে এবং যুদ্ধের একটি ‘সম্মানজনক প্রস্থান’ বা কার্যকর কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার জন্য ট্রাম্প তাঁর এই তিন ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছেন।

গত শনিবার ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠকের পর থেকে ভ্যান্স ও তাঁর দল ইরানি প্রতিনিধি ও মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানে বড় কিছু ঘটতে পারে। তিনি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের মধ্যস্থতার প্রশংসা করে বলেন, "তিনি দুর্দান্ত কাজ করছেন, তাই আমরা আবারও সেখানে যাওয়ার বিষয়ে বেশি আগ্রহী।"

প্রথম দফার আলোচনা কোনো চূড়ান্ত চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছিল, যার প্রধান কারণ ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিতের সময়সীমা নিয়ে মতভেদ। যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের স্থগিতাদেশ চাইলেও ইরান কম সময়ের জন্য প্রস্তাব দিয়েছিল। এছাড়া হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা এবং জব্দকৃত অর্থ ছাড়ের বিষয়গুলোও আলোচনার টেবিলে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, দুই পক্ষই একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী হলেও পরবর্তী বৈঠকের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ও রূপরেখা এখনও চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। তবে ২২ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই একটি ফলপ্রসূ আলোচনায় বসার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ওয়াশিংটন। হিজবুল্লাহর সাম্প্রতিক ড্রোন হামলা এবং লোহিত সাগরে উত্তেজনার মাঝে এই কূটনৈতিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর শেষ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন