আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৪:৫৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে নারাজ ইরান: ভাইস প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন কোনো দফায় সংলাপে বসার পরিকল্পনা এই মুহূর্তে তেহরানের নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইরান। সোমবার (২০ এপ্রিল) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই এই অবস্থান ব্যক্ত করেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তেহরান আলোচনার প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই এক বিবৃতিতে জানান, পরবর্তী কোনো আলোচনার সময়, স্থান কিংবা কাঠামো নিয়ে ইরানের কোনো পরিকল্পনা নেই। এর আগে ইরান নির্দিষ্ট কিছু ‘লাল রেখা’ বা সীমা মেনে চললে বৈঠকে বসার ইঙ্গিত দিলেও, বর্তমানে সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। যদিও সেই শর্তগুলো কী ছিল, তা প্রকাশ করা হয়নি, তবে তেহরানের দাবি ছিল এই সীমাগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই সম্মানের সঙ্গে মেনে নিতে হবে।

অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে নেতিবাচক সাড়া পাওয়া সত্ত্বেও আলোচনার উদ্দেশ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যায় তার প্রতিনিধিরা ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন। হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে যে, এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইতোমধ্যে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত দুটি সামরিক বিমান অবতরণ করেছে বলে জানা গেছে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বাধীন এই দলে ট্রাম্পের বিশেষ উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। উল্লেখ্য, কুশনার এর আগের দফার আলোচনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ওয়াশিংটন আলোচনার বিষয়ে তোড়জোড় চালালেও তেহরানের অনমনীয় অবস্থান এই কূটনৈতিক উদ্যোগকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যকার আস্থার সংকট এবং পূর্বশর্ত পালনে অনীহাই এই অচলাবস্থার প্রধান কারণ।

মন্তব্য করুন