তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৫:০৭ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন: নিবন্ধন সনদ ছাড়াই সরাসরি আবেদনের সুযোগ

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের প্রচলিত নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। নতুন এই পদ্ধতিতে প্রার্থীদের শিক্ষক নিবন্ধন সনদের জন্য আলাদা কোনো পরীক্ষায় বসতে হবে না। বরং সরাসরি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে আবেদনের মাধ্যমে মেধা যাচাইয়ের পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রার্থীরা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাবেন। এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম এই নতুন পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেছেন।

চেয়ারম্যান জানান, প্রথমবারের মতো সরাসরি শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। ইতিমধ্যে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শূন্যপদের চাহিদা সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমানে তথ্যগুলো যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই বিশাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এই পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘসূত্রতা কমবে এবং প্রকৃত মেধাবীরা দ্রুত কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

এনটিআরসিএ সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে মোট ৭৭ হাজার ৭৯৯টি পদ শূন্য রয়েছে। নতুন নিয়ম অনুসারে, প্রার্থীরা সরাসরি শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন করবেন। এরপর তাদের ২০০ নম্বরের একটি বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। এই ধাপে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার জন্য লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষায় আলাদাভাবে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর পাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কেবল চূড়ান্ত ফলে উত্তীর্ণদেরই এনটিআরসিএ শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সনদ প্রদান করবে।

বর্তমানে দেশে প্রায় ৩৪ হাজার ১২৯টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে প্রায় ৬ লাখ শিক্ষক এবং ২ লাখেরও বেশি কর্মচারী কর্মরত আছেন। বিপুল সংখ্যক শূন্যপদ পূরণে এই নতুন সরাসরি নিয়োগ পদ্ধতি শিক্ষা খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও চাকরিপ্রার্থীরা।

মন্তব্য করুন