তরুণ কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৩:৩৮ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খানের ‘মিথ্যা’ পরিচয় ও চাল কেলেঙ্কারি: বদলি হলেন ওসি দিনা

নিজেকে সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খানের মেয়ে পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটানো শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহনেওয়াজ আলম দিনাকে অবশেষে বদলি করা হয়েছে। সরকারি চাল কালোবাজারে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ এবং প্রশাসনিক কারণে তাকে মুন্সীগঞ্জের কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুরাইয়া খাতুন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়।


ঘটনার প্রেক্ষাপট: ৪০০ বস্তা চাল আটকের নাটকীয়তা

স্থানীয় সূত্র ও প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে আংগারিয়া খাদ্য গুদাম থেকে একটি ট্রাকে করে সরকারি সিলমারা অন্তত ৪০০ বস্তা চাল বের করা হয়। ঘটনাপ্রবাহ ছিল নিম্নরূপ:

  • প্রথম দফায় আটক: পালং মডেল থানা সংলগ্ন সড়কে স্থানীয়রা ট্রাকটি আটক করে চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ তোলে।

  • দ্বিতীয় দফায় আটক: পুলিশ ট্রাকটি থানার গেটে রাখলেও পরে তা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে চৌরঙ্গি এলাকায় জনতা আবারও ট্রাকটি আটকে দেয়।

  • মধ্যরাতে উদ্ধার: রাত ১২টার দিকে ওসি শাহনেওয়াজ আলম দিনা ঘটনাস্থলে এসে চালগুলো পুনরায় গুদামে নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। অবশেষে মধ্যরাতে চালগুলো জেলা খাদ্য গুদামে সরিয়ে নেওয়া হয়।


পরিচয়ের প্রতারণা

তদন্তে জানা গেছে, শাহনেওয়াজ আলম দিনা নিয়মিত নিজেকে সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের মেয়ে পরিচয় দিয়ে বেড়াতেন এবং এই পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব খাটাতেন। তবে প্রকৃতপক্ষে তাঁর বাবা মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর হোসেন। রাজনৈতিক প্রভাব বলয় ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন অনিয়ম চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


তদন্ত কমিটি ও পরবর্তী ব্যবস্থা

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হুমায়ুন কবির একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির সদস্যরা হলেন:

  1. তরিকুল ইসলাম (গোসাইরহাট উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক)

  2. মোহাম্মদ রাশেদ উজ্জামান (জাজিরা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক)

  3. মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন (জেলা কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক)

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বক্তব্য: "প্রশাসনিক কারণে তাকে বদলি করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট হাতে এলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, সরকারি চাল গুদাম থেকে কীভাবে বের হলো এবং এর পেছনে আর কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে শরীয়তপুরে এই ‘ভুয়া পরিচয়’ এবং ‘চাল পাচার’ ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মন্তব্য করুন