আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ ঘন্টা আগে, ১১:১১ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত চুক্তি এখনো অনেক দূরে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনায় কিছুটা ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও দুই পক্ষ এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে জাতীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বর্তমান কূটনৈতিক পরিস্থিতির একটি বাস্তবসম্মত চিত্র তুলে ধরেন। তাঁর মতে, আলোচনায় কিছু বিষয়ে নমনীয়তা দেখা গেলেও ‘মৌলিক ও কৌশলগত’ অনেক বিষয়ে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য বা ফাঁকফোকর রয়ে গেছে।

গালিবাফ তাঁর বক্তব্যে পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, কয়েক সপ্তাহের এই সামরিক সংঘাতে ইরান ‘মাঠে জয়ী’ হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটন তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে এবং তেহরান এখনো বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালির ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। স্পিকারের ভাষায়, “আমরা যদি এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়ে থাকি, তবে তা কেবল এই কারণেই যে তারা আমাদের দেওয়া শর্তগুলো গ্রহণে বাধ্য হয়েছে।”

ইরানি স্পিকার আলোচনাকে সামরিক সংগ্রামেরই একটি ‘কূটনৈতিক অংশ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, শত্রুপক্ষ শুরু থেকেই একতরফা শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ইরান নিজের অধিকার আদায়ে অনড় ছিল। গালিবাফ স্পষ্ট করেন যে, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, গালিবাফের এই বক্তব্য দুই দেশের মধ্যকার গভীর আস্থার সংকটের বহিঃপ্রকাশ। একদিকে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা চললেও অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় অবরোধ এবং একে অপরের বিরুদ্ধে শর্ত ভঙ্গের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। আগামী সোমবার ইসলামাবাদে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আগে ইরানের এই অবস্থান ওয়াশিংটনের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যকার এই ‘অমীমাংসিত মৌলিক বিষয়গুলো’ শেষ পর্যন্ত স্থায়ী শান্তিতে রূপ নেয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

মন্তব্য করুন