আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬ ঘন্টা আগে, ১১:২০ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক নাকচ ইরানের: আলোচনায় তেহরানের কঠিন শর্ত

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অবস্থানরত মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো ধরনের সরাসরি বৈঠকে বসছে না ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরাসরি আলোচনার কোনো পরিকল্পনা তাঁদের নেই। সরাসরি সংলাপের পরিবর্তে ইরান কিছু ‘পর্যবেক্ষণ’ এবং তাঁদের সুনির্দিষ্ট অবস্থানের কথা পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করবে, যাতে ইসলামাবাদ তা মার্কিন প্রতিনিধিদের কাছে পৌঁছে দিতে পারে।

ইরানি কর্মকর্তাদের গত কয়েক দিনের অবস্থান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের নীতিতে কোনো নমনীয়তা আসেনি; বরং তারা আগের কঠোর অবস্থানেই অনড় রয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো ধরনের অগ্রগতি বা আলোচনার পথে তারা অনেকগুলো কঠিন শর্ত জুড়ে দেবে। তেহরানের মূল শর্ত হলো—যেকোনো সমঝোতা বা আলোচনার আগে ইরান লক্ষ্য করে দেওয়া অর্থনৈতিক ও সামরিক অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে।

ইরানি কর্মকর্তারা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালীতে বর্তমানে যে নৌ-অবরোধ চলছে, তা সরাসরি আলোচনার পথে সবচেয়ে বড় বাধা। তেহরানের পক্ষ থেকে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনো ধরনের হুমকিমূলক ভাষা বা বক্তব্য তারা গ্রহণ করবে না। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার পারদ বৃদ্ধি এবং নৌ-অবরোধ বহাল রাখাকে তারা ‘যুদ্ধংদেহী পদক্ষেপ’ ও ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে কঠোর ভাষায় বর্ণনা করেছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পরোক্ষ বার্তা আদান-প্রদান শুরু হলেও সরাসরি টেবিল বৈঠকে বসার সম্ভাবনা এখনো ক্ষীণ। অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের অনমনীয় মনোভাবের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট নিরসনে কোনো দ্রুত সমাধান আসার পথ আপাতত রুদ্ধ বলেই মনে হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ইসলামাবাদের মাধ্যমে ইরানের দেওয়া এই ‘পর্যবেক্ষণ’ ও শর্তাবলির প্রেক্ষিতে ওয়াশিংটন কী প্রতিক্রিয়া দেখায়।

মন্তব্য করুন