প্রকাশিত: ৬ ঘন্টা আগে, ১০:১২ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের সংঘাতের পর গত মার্চে হওয়া যুদ্ধবিরতি হুমকির মুখে পড়েছে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তান—উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে সীমান্ত চুক্তির মারাত্মক লঙ্ঘনের দাবি তুলেছে। সোমবার আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় কুনার প্রদেশে পাকিস্তানি হামলার অভিযোগ ওঠার পাশাপাশি দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে আফগান দিক থেকে গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।
তালেবান প্রশাসনের দাবি, কুনার প্রদেশের রাজধানী আসাদাবাদের সায়িদ জামালউদ্দিন আফগানি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কিছু আবাসিক এলাকায় লক্ষ্যভ্রষ্ট গোলা এসে পড়েছে। এতে নারী, শিশু ও শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ হতাহত হয়েছেন।
এই রক্তক্ষয়ী হামলার প্রতিক্রিয়ায় তালেবানের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত বলেন, "পাকিস্তান সেনাবাহিনী মর্টার ও রকেট হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ৪৫ জন আহত হয়েছেন।"
একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে তালেবানের এই উপমুখপাত্র বলেন, "পাকিস্তানের এসব সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। এতে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, এটি ক্ষমার অযোগ্য যুদ্ধাপরাধ।"
তবে এই অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় কুনারের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনাকে ‘স্পষ্ট মিথ্যা’ হিসেবে অভিহিত করে তা নাকচ করে দিয়েছে।
পাল্টা অভিযোগে পাকিস্তান জানায়, দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে আফগান সীমান্ত থেকে চালানো গোলার আঘাতে অন্তত তিনজন বেসামরিক নাগরিক জখম হয়েছেন। পাকিস্তানের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একজন মুখপাত্র এই সংঘাতের ভয়াবহতা তুলে ধরে একে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে ‘গুরুতর সংঘর্ষ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। দুই দেশের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানে সীমান্ত অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মন্তব্য করুন