প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০২:৩৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

পরিবেশ সুরক্ষা ও সমতা নিশ্চিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে পাটজাত ব্যাগ ও পোশাক দেবে সরকার: মাহদী আমিন

দেশের তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশীয় পণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বড় ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। আগামী জুলাই মাস থেকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে সারা দেশের প্রতিটি উপজেলার দুটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে উন্নত মানের পাটজাত ব্যাগ এবং স্কুল ড্রেস বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন।

মাহদী আমিনের ভাষ্যমতে, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ স্লোগানকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার স্বপ্নের অংশ হিসেবে দেশের কোমলমতি শিশুদের মাধ্যমেই এই যাত্রার সূচনা হচ্ছে। তিনি জানান, এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার বৈষম্য কমিয়ে এনে সমাজে একটি প্রকৃত ন্যায্যতা ও সমতা নিশ্চিত করা। একই ধরনের পোশাক ও স্কুল ব্যাগ ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুরু থেকেই সাম্যের মানসিকতা গড়ে উঠবে। প্রথম মাসে প্রায় এক লাখের বেশি শিক্ষার্থীর কাছে এই উপকরণগুলো পৌঁছে দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

পরিবেশ সুরক্ষায় এই উদ্যোগকে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, পলিথিন বা প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবেশকে রক্ষা করতে শিশুদের মাঝে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার জনপ্রিয় করার লার্নিং বা শিক্ষা শুরু হবে এই ব্যাগ বিতরণের মাধ্যমে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের হারানো ঐতিহ্য ও সোনালী আঁশের গৌরব পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রায় উৎসাহিত করা হবে। প্রান্তিক পর্যায় থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে দেশের সব শিক্ষার্থীদের এই কার্যক্রমের আওতায় আনার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

মাহদী আমিন আরও উল্লেখ করেন যে, এই কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘদিনের একটি বিশেষ ভিশন বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। একদিকে যেমন দেশীয় পণ্যের অভ্যন্তরীণ বাজার শক্তিশালী হবে, অন্যদিকে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের সচেতন অবস্থানটিও পরিষ্কার হবে। তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত মানসম্মত পোশাক ও টেকসই পাটজাত পণ্য পৌঁছে দেওয়ার এই প্রক্রিয়ায় পর্যায়ক্রমে সরকারি ও বেসরকারি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সম্পৃক্ত করা হবে। এই উদ্যোগটি কেবল একটি সরকারি সহায়তা নয়, বরং স্বনির্ভর বাংলাদেশ ও একটি বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে একটি প্রতীকী পদক্ষেপ।

মন্তব্য করুন