প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৩:৪৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থীরা খাগড়াছড়ি জেলার চেঙ্গী নদীর Chengi River Habitat Survey (রিভার হ্যাবিটেট সার্ভে) সম্পন্ন করে
আজ ২২ এপ্রিল ২০২৬ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান এর নেতৃত্বে ৫৫ জন শিক্ষার্থী এ জরিপ কাজে অংশ নেয়। শহরের পর্যটন মোটেল সংলগ্ন নদীর উত্তর অংশে এ জরিপ কাজের ফিল্ড ক্যাম্প স্থাপন করে, চেঙ্গী নদীর সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে জরিপ সম্পন্ন করা হয়।
রিভার হ্যাবিটেট সার্ভে (RHS)-এর মাধ্যমে নদীর মরফোলজিক্যাল বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তনশীলতা, পানি প্রবাহের ধরন, নদীর উভয় তীরের ভূমি ব্যবহার, নদীভাঙন ও ক্ষয় কার্যক্রমসহ নদীর পানির গুণগত মান সম্পর্কে সমীক্ষা করা হয়। এই সমীক্ষার মাধ্যমে নদীর মাধ্যমে যে পরিবেশগত সেবা (ইকোসিস্টেম সার্ভিসেস) আমরা পেতে থাকি সে সম্পর্কে সার্বিক ধারণা পাওয়া যায়।
এ অঞ্চলে কোন নদীর ওপর এরূপ সার্ভে এই প্রথম করা হয়। একটি নির্দিষ্ট মডেল ফলো করে এই কাজটি সম্পন্ন হয়। RHS কে এক কথায় নদীর স্বাস্থ্য সমীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হয়৷
এই সমীক্ষায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নিগার সুলতানা এবং ড. রিফাত মাহমুদ ও অংশগ্রহণ করেন।
নদীর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় প্রাথমিক ফলাফল হিসেবে জানা যায় নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া, অপরিকল্পিত বেড়িবাধ বা নদী ভাঙ্গন রোধে ব্লক বসানো প্রয়োজন। নদীর পানির গুণগত মান নষ্ট হওয়ায় এবং নদীতে প্রচুর বর্জ্যের উপস্থতি লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ নিশ্চিতের ব্যাপার সতর্কতার জারির প্রয়োজন বলে মনে করেন সমীক্ষাদলের প্রধান প্রফেসর ড. মো. মনিরুজ্জামান।
খাগড়াছড়ি শহর এবং সংলগ্ন এলাকার ভূগর্ভস্থ পানির যোগান দাতা চেঙ্গি নদীর প্রবাহ কমে গেলে এই এলাকার সুপেয় পানির সরবরাহ ঘাটতি হতে পারে বলে মনে করছে গবেষক দল৷
চেঙ্গি নদীর সব মাধ্যমেই প্রকারাণান্তে কার্যকরভাবে লেকের পানি সরবরাহ হয়। তাই আঞ্চলিক ওয়াটারশেড ব্যবস্থাপনার বিষয় বিবেচনা করে গবেষক দল চেঙ্গি নদীর ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সজাগ থাকার পরামর্শ দেন।
মন্তব্য করুন