প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৩:৩১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
জামিন করিয়ে দেওয়ার নামে এক কোটি টাকা দাবি করার অভিযোগ ওঠার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এক সাবেক প্রসিকিউটরকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসার পর ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, অভিযোগের বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করা হবে।
জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রাম শহরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার আসামি চট্টগ্রাম–৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী। অভিযোগ রয়েছে, ওই মামলায় তাকে জামিনে মুক্তি পাইয়ে দেওয়ার জন্য তার পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা দাবি করেছিলেন সদ্য পদত্যাগ করা প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদার।
হোয়াটসঅ্যাপের কথোপকথনের একাধিক অডিও রেকর্ডিংয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। এসব রেকর্ডিং গণমাধ্যমের হাতে এসেছে এবং যাচাই–বাছাই করে একটি যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়টি জানার পর ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম সাইমুম রেজা তালুকদারকে সংশ্লিষ্ট মামলার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন। তবে তখন তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং তিনি ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য দায়িত্বে বহাল ছিলেন।
পরবর্তীতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানায়, সাইমুম রেজা তালুকদারের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাকে প্রসিকিউটর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, তিনি ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি প্রথমে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখে অবগত হন। এরপরই তিনি সব প্রসিকিউটরকে জরুরি ভিত্তিতে সকালে উপস্থিত হতে বলেন এবং বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
তিনি আরও বলেন, “যদি এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমার কাছে আসে, তাহলে আইন অনুযায়ী আমার যে ক্ষমতা আছে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না এলেও চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে আমরা অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করব।”
চিফ প্রসিকিউটর জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের পর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করে তদন্ত করা হবে। যদি কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়, তবে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, মো. সাইমুম রেজা তালুকদার মূলত একজন শিক্ষক ছিলেন। তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ঢাকার নাগরিক সমাজে পরিচিত মুখ। ইন্টারনেট শাসন ও নিরাপত্তা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত হলেও ট্রাইব্যুনালে নিয়োগ পাওয়ার আগে তার মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতা খুব সীমিত ছিল।
মন্তব্য করুন