প্রকাশিত: ৬ ঘন্টা আগে, ১১:১৮ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তেহরান শর্ত মেনে চুক্তিতে সই না করা পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না।
নিজের সামাজিক মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যালে' দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, এক সপ্তাহ ধরে চলা এই নৌ-অবরোধ ইরানকে "একেবারে ধ্বংস করে দিচ্ছে" এবং এই লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র "বড় ব্যবধানে" জয়ী হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে তারা ২৭টি জাহাজকে ইরানের বন্দরে যেতে বাধা দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে এবং সম্প্রতি একটি ইরানি পণ্যবাহী জাহাজ জব্দও করেছে। তবে ইরান এই পদক্ষেপকে 'জলদস্যুতা' ও যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি ও জ্বালানি সংকট
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির ওপর গত দুই মাস ধরে অবরোধ বজায় রেখেছে ইরান, যার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী। তেহরানের সাফ কথা, তাদের বন্দর থেকে মার্কিন অবরোধ না সরালে তারা হরমুজ প্রণালি খুলবে না। ট্রাম্প পাল্টা অভিযোগ করেছেন যে, শনিবার প্রণালিটি অল্প সময়ের জন্য খোলা হলেও ইরান জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।
ইসলামাবাদে আলোচনার অনিশ্চয়তা
বুধবার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চললেও দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে ধোঁয়াশা। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ আলোচনার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকলেও দুই দেশের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এখনো ওয়াশিংটন ছাড়েননি। তবে হোয়াইট হাউস সূত্র বলছে, তিনি আজ বা আগামীকাল ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা হতে পারেন। তার সঙ্গে ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের থাকার কথা রয়েছে।
ইরানের অবস্থান: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দফার বৈঠকে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে তাদের এখন পর্যন্ত কোনো পরিকল্পনা নেই। তেহরান ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে 'অতিরিক্ত দাবি ও বেআইনি অনুরোধের' অভিযোগ তুলেছে।
মধ্যস্থতায় পাকিস্তান
আলোচনা সফল করতে মরিয়া হয়ে কাজ করছে পাকিস্তান সরকার। ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেল থেকে সাধারণ অতিথিদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং শহরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা আত্মবিশ্বাসী যে, তারা তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পারবেন। বিবিসির প্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা লিস ডুসেটের মতে, কূটনৈতিক ব্যর্থতার দায় কেউ নিতে চায় না বলেই শেষ মুহূর্তে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
আগামীকাল বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না গেলে মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন