তথ্য-প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৪:১৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

অ্যাপলে নতুন যুগের সূচনা: সিইও পদ ছাড়ছেন টিম কুক, দায়িত্ব নিচ্ছেন জন টার্নাস

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৫ বছর সফলভাবে পরিচালনার পর বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন টিম কুক। তার উত্তরসূরি হিসেবে কোম্পানির দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত হার্ডওয়্যার প্রধান জন টার্নাসকে নতুন সিইও হিসেবে ঘোষণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই শীর্ষ পদের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

অ্যাপলকে ৩.৬ ট্রিলিয়ন ডলারের এক বিশাল সাম্রাজ্যে পরিণত করা ‘সাপ্লাই চেইন জিনিয়াস’ টিম কুক অবশ্য প্রতিষ্ঠান থেকে একেবারে বিদায় নিচ্ছেন না। ৬৪ বছর বয়সি কুক এখন থেকে অ্যাপলের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তার এই নতুন ভূমিকা উত্তরসূরি টার্নাসকে নীতিনির্ধারণী ও কৌশলগত সিদ্ধান্তে সহায়তা করবে। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস যখন কুকের হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন, তখন কুকের বয়স ছিল ৫০ বছর—যা বর্তমান নতুন সিইও টার্নাসেরও বর্তমান বয়স।

৫০ বছর বয়সি জন টার্নাস ২০০১ সাল থেকে অ্যাপলের সাথে যুক্ত। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময়ে তিনি আইপ্যাড, এয়ারপডস এবং ম্যাক-এর মতো জনপ্রিয় পণ্যগুলোর আধুনিকায়নে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন। তাকে অ্যাপলের ‘ইনসাইডার গোল্ড’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যিনি কোম্পানির অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতি এবং হার্ডওয়্যার প্রযুক্তি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখেন। সম্প্রতি বাজারে আসা ‘আইফোন এয়ার’-এর রূপরেখা তৈরিতেও তার বিশেষ অবদান ছিল।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, টার্নাসের নিয়োগ অ্যাপল প্রেমীদের জন্য নতুন আশার বার্তা নিয়ে আসছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতায় অ্যাপলকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই হবে তার প্রধান চ্যালেঞ্জ। ধারণা করা হচ্ছে, টার্নাসের হাত ধরে ফোল্ডিং আইফোন, এআর গ্লাস এবং এআই চালিত নতুন সব উদ্ভাবনী পণ্য বাজারে আসার পথ প্রশস্ত হবে। বিশেষ করে গুগলের ‘জেমিনি’ এবং ওপেনএআই-এর সাথে পাল্লা দিয়ে অ্যাপলের ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘সিরি’-কে আরও উন্নত ও বুদ্ধিমান করে তোলা টার্নাসের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে।

মন্তব্য করুন