আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১১:৫৩ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

জাতিসংঘে ইরান

ইরান জাতিসংঘে কড়া প্রতিবাদ: খামেনি হত্যা ‘কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী কাজ’

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনায় জাতিসংঘে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে তেহরান। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।


চিঠিতে খামেনির হত্যাকাণ্ডকে একটি ‘কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী কাজ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়, এই ঘটনা একটি ‘বিপজ্জনক ও নজিরবিহীন উত্তেজনা’ তৈরি করেছে, যা রাষ্ট্রকাঠামোর মৌলিক আদর্শ এবং জাতিগুলোর মধ্যে সভ্য আচরণের পরিপন্থি।


ইরানের পক্ষ থেকে এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর যথাযথ বিচারের দাবি জানানো হয়েছে। তেহরানের দাবি, এই ধরনের কর্মকাণ্ড পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।


জাতিসংঘে পাঠানো চিঠিতে আব্বাস আরাগচি আরও বলেন,
“এ ধরনের আচরণ কেবল আন্তর্জাতিক আইনের প্রতিষ্ঠিত নীতিমালার লঙ্ঘনই নয়; বরং এটি একটি বিপজ্জনক ‘প্যান্ডোরার বক্স’ খুলে দেওয়ার শামিল। এটি রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের সমতা এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার মূলে আঘাত হেনেছে।”


তিনি আরও যোগ করেন,
“ইরান অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিব এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে যেন তারা বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় সনদে দেওয়া নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেন। উল্লিখিত এই নৃশংস সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলি সরকারকে পুরোপুরি জবাবদিহিতার আওতায় আনতে অবিলম্বে কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।”

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহত হওয়ার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে। এরপর ইরানের পক্ষ থেকে প্রতিশোধমূলক হামলা চলছে। আইআরজিসি বলছে, এটি ইরানের ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী আক্রমণ।


জাতিসংঘে ইরানের এই কড়া প্রতিবাদকে তেহরানের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তেহরান এই হামলাকে যুদ্ধাপরাধ ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে।


আন্তর্জাতিক মহল যুদ্ধবিরতির জন্য কূটনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস উভয় পক্ষকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন।
পরিস্থিতি এখন চরম সংবেদনশীল। যেকোনো সময় নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে।২৬।৭স্ফাস্ত 
 

মন্তব্য করুন