প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১০:৪৬ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
আইনজীবীর ভুলের কারণে মক্কেলকে ভোগান্তির শিকার হতে দেওয়া উচিত নয় বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ‘মোহাম্মদ আসিফ বনাম রাষ্ট্র’ মামলায় আদালত এ পর্যবেক্ষণ দেন। জমির মালিকানা-সংক্রান্ত মামলায় অধস্তন আদালতের রায় ও ডিক্রি বাতিল করে পুনর্বিচারের নির্দেশও দিয়েছেন উচ্চ আদালত।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদীর হাইকোর্ট বেঞ্চ ফাস্ট আপিলের শুনানি শেষে মামলাটি পুনর্বিচারের জন্য অধস্তন আদালতে ফেরত পাঠান।
রায়ে আদালত বলেন, মামলার আরজি প্রস্তুত করার সময় সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ভুল করেছিলেন। এতে বাদীর কোনো ভূমিকা ছিল না। তাই আইনজীবীর ভুল বা ত্রুটির কারণে মক্কেলের ভোগান্তি হওয়া উচিত নয়।
হাইকোর্ট আরও বলেন, মামলার সার্বিক তথ্য-উপাত্ত ও নথিপত্র বিবেচনায় উভয় পক্ষকে নিজ নিজ আরজি সংশোধন এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ দিয়ে মামলাটি পুনর্বিচারের জন্য বিচারিক আদালতে ফেরত পাঠালেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
প্রকাশিত রায় ও মামলার বিবরণী অনুযায়ী, মোহাম্মদ আসিফ বিরোধপূর্ণ ৬৭ দশমিক ৪০ শতাংশ জমির ওপর স্বত্ব ঘোষণার দাবিতে মামলাটি করেছিলেন। তাঁর দাবি, জমিটি প্রসন্ন কুমার বসু ও অন্যদের মালিকানাধীন ছিল এবং সিএস খতিয়ান নম্বর ২৭১৫-এ সঠিকভাবে রেকর্ড করা হয়েছিল।
সিএস রেকর্ডভুক্ত মালিকেরা ১৯৫২ সালের ১৮ জুন, ১৭ সেপ্টেম্বর ও ২৮ আগস্ট তারিখের নিবন্ধিত পাট্টা দলিলের মাধ্যমে জমিটি কাজী আবু সাঈদের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে তিনি ১৯০৪ সালের ১৩ জানুয়ারি নিবন্ধিত কবলা দলিলের মাধ্যমে জমি সালাহউদ্দিন ও খলিল মিয়ার কাছে হস্তান্তর করেন। খলিল মিয়া ওই বছরের ৬ অক্টোবর নিবন্ধিত কবলা দলিলের মাধ্যমে নিজের অংশ সালাহউদ্দিনের কাছে বিক্রি করেন।
তবে আরএস খতিয়ানে মোট ৬৭ দশমিক ৪০ শতাংশ জমির পরিবর্তে ৫৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ জমি ভুলবশত কাজী সালাহউদ্দিনের নামে রেকর্ড করা হয়।
পরবর্তীতে সালাহউদ্দিন ১৯৮৯ সালের ৩১ মে নিবন্ধিত কবলা দলিলের মাধ্যমে মোহাম্মদ আসিফের কাছে ৬৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ জমি হস্তান্তর করেন। আসিফ সেখানে একটি কারখানা স্থাপন করে জমিটি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন। কিন্তু সিটি সার্ভের খতিয়ান নম্বর ১-এ জমিটি বিবাদীদের নামে রেকর্ড করা হয়। এরপর ওই রেকর্ডের ভিত্তিতে স্থানীয় তহশিলদার আসিফের কাছ থেকে খাজনা নেওয়া বন্ধ করে দেন।
এ অবস্থায় সিটি সার্ভের খতিয়ান ভুল ও অবৈধ ঘোষণার দাবিতে ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা করেন আসিফ। তবে মামলার আরজিতে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী আরএস খতিয়ানে জমির পরিমাণ ভুলভাবে রেকর্ড হওয়ার বিষয়টি এবং সিটি সার্ভে খতিয়ান নম্বর ১-এ বিবাদীদের নামে জমি রেকর্ড হওয়ার বিষয়টি যথাযথভাবে তুলে ধরেননি।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আরজিতে সঠিকভাবে উপস্থাপিত না হওয়ায় মামলায় আসিফ ক্ষতিগ্রস্ত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ১৫ জুন ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ আদালত মামলাটি খারিজ করে রায় ও ডিক্রি দেন।
ওই রায় ও ডিক্রিতে সংক্ষুব্ধ হয়ে মোহাম্মদ আসিফ ২০১৮ সালে হাইকোর্টে ফাস্ট আপিল করেন। আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে অধস্তন আদালতের রায় ও ডিক্রি বাতিল করে মামলাটি পুনর্বিচারের জন্য ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত দেন হাইকোর্ট।
মন্তব্য করুন