প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৯:৫৬ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কোনো রাজনৈতিক জোট। প্রাথমিক ফলাফলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট এগিয়ে থাকলেও ক্ষমতায় ফেরা এখনো নিশ্চিত নয়। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটও প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে পিছিয়ে রয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ৯টা পর্যন্ত ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন ৫০ লাখের বেশি ভোট গণনা করেছে। প্রাথমিক হিসাবে, ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়াতে পারে ৪৮টিতে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলে সরকার গঠনের জন্য পার্লামেন্টে অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন। ফলে দুই প্রধান জোটের কেউই এখন পর্যন্ত সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি।
মঙ্গলবারের ভোটের প্রাথমিক ফলাফলে আরবদের দুটি রাজনৈতিক জোট—জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম—সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই আসনগুলো সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগে আসনসংখ্যা নিশ্চিত নয়।
এখনো কয়েক লাখ বিশেষ ব্যালট গণনা বাকি রয়েছে। এসব ভোটের মধ্যে সেনাসদস্য, কূটনীতিক এবং নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের ব্যালট রয়েছে। ফলে চূড়ান্ত ফলাফলে আসনবণ্টনে পরিবর্তন আসতে পারে। পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশের সময়সূচি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও আনুষ্ঠানিক ফল পরে প্রকাশের কথা রয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার পর এটিই ইসরাইলের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। নেতানিয়াহুর প্রধানমন্ত্রিত্বের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এ নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও সবচেয়ে বড় জোটের নেতৃত্বে থাকায় সরকার গঠনের আলোচনায় নেতানিয়াহুর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নেতানিয়াহু। চূড়ান্ত ফলের পর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবেন।
নির্বাচনের আগে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছিলেন বিরোধী নেতা আইজেনকট। নেতানিয়াহুও এমন সম্ভাবনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। ফলে সরকার গঠনের জন্য দুই প্রধান জোটকে অন্য রাজনৈতিক শক্তির সমর্থন আদায় করতে হতে পারে।
প্রাথমিক ফলাফলে নেতানিয়াহুর জোট সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ার পথে থাকায় ঐক্য সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে আইজেনকটের জোটের অংশগ্রহণের প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে বিরোধী নেতারা নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে আসায় এ সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আইজেনকট বলেন, তাঁর বিরোধী জোট ইসরাইলে পরিবর্তন আনা এবং নতুন সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে। তাঁর দাবি, ভোটাররা বর্তমান সরকারের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে, নির্বাচনে আরব ভোটারদের রেকর্ড উপস্থিতির মধ্যে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচন প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলেছে। দলটির দাবি, কয়েকটি আরব-অধ্যুষিত ভোটকেন্দ্রে ঘুষ, হুমকি, সহিংসতা, জালিয়াতি ও নিষিদ্ধ সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
লিকুদ পার্টি জানিয়েছে, অভিযোগের পক্ষে শত শত সাক্ষ্য ও প্রমাণ পুলিশ, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, আরবদের প্রধান রাজনৈতিক জোট জয়েন্ট লিস্টের দাবি, আরব ভোটারদের অংশগ্রহণ নেতানিয়াহু ও তাঁর মিত্রদের সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে বাধা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জোটটির ভাষ্য, ভোটাররা উসকানি ও ভয়ভীতির জবাব দিয়েছেন ব্যালটের মাধ্যমে।
জয়েন্ট লিস্ট নেতানিয়াহু সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং তাঁর প্রত্যাবর্তন ঠেকানোর অঙ্গীকার করেছে। বিকল্প সরকার গঠনে সহযোগিতা করতেও তারা প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। তবে জোটের নেতা ইউসেফ জাবরিনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা নেতানিয়াহুবিরোধী কোনো সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দিতে পারেন, কিন্তু সরাসরি সেই সরকারের অংশ হবেন না।
সূত্র: আলজাজিরা
মন্তব্য করুন