তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ১৫ ঘন্টা আগে, ১১:৫৯ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

১৩ দেশের সমর্থনে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়ে নিরাপত্তা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব

সংগ্রহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের সামরিক হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। একই সঙ্গে এসব হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে পরিষদে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইরানের এ ধরনের সামরিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং বিশ্বশান্তির জন্য গুরুতর হুমকি।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

বুধবার (১১ মার্চ) নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে ১৩ দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। কোনো দেশ এর বিপক্ষে ভোট দেয়নি। তবে চীন ও রাশিয়া ভোটদানে বিরত থাকে। প্রস্তাবটি স্পন্সর করে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি), আর বিশ্বের আরও ১৩৫টি দেশ সহ-স্পন্সর হিসেবে এতে সমর্থন দেয়।

নিউইয়র্ক থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক গ্যাব্রিয়েল এলিজন্ডো জানান, ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমর্থনের কারণে চীন ও রাশিয়া সম্ভবত প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেয়নি। তার মতে, এটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক দেশ দ্বারা সহ-স্পন্সর হওয়া খসড়া প্রস্তাব।

প্রস্তাবের মূল বিষয়গুলো হলো: ইরানের হামলার নিন্দা, দ্রুত সংঘাত বন্ধের আহ্বান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর আক্রমণ বন্ধের দাবি।

এলিজন্ডো বলেন, “প্রস্তাবটি অত্যন্ত স্পষ্ট; এটি এখন আন্তর্জাতিক আইনের অংশ। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, ইরান কি এর প্রতি সম্মান দেখাবে?”

নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটে, এমন কোনো পদক্ষেপ ইরান নিতে পারবে না। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হিসেবে পরিচিত এই জলপথ দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হয়। এ পথ বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে আসছে ইরান। তবে তেহরানের দাবি, তারা কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে হামলা করছে না; বরং ওই অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্র-এর সামরিক ঘাঁটি ও সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতেই আঘাত হানা হচ্ছে।

এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবটি কিছুটা একপেশে। কারণ এতে ইরানের ওপর পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর বিমান হামলার কোনো উল্লেখ বা নিন্দা নেই। ফলে এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইরান কতটা সহযোগিতা করবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সংশয় রয়েছে।

মন্তব্য করুন