প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৭:৪৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে আগের অবস্থায় ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় তিন ঘণ্টার আলোচনায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে মতামত দেন অংশগ্রহণকারীরা।
সভায় ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট দীর্ঘদিনের এবং এটি সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। মাত্র ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এ ধরনের জটিলতা পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সমস্যা চিহ্নিত করে সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং এখন সেগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
গ্যাস সংকটের কারণ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ায় সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। এতে শিল্প-কারখানাসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার কারণে তৈরি হওয়া সমস্যা এরই মধ্যে সমাধান করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ইনশাআল্লাহ, আগামীকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা থেকে গ্যাসের সরবরাহ এক-দেড় মাস আগে যে অবস্থায় ছিল, সে রকম একটা অবস্থায় ফিরে আসবে।’
গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিটুজি ভিত্তিতে নতুন টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি গত এক মাসে অনেকটাই এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। দ্রুত এর কার্যক্রম শুরু হবে এবং ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে টার্মিনালটি সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত করার আশা করা হচ্ছে।
২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি
ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিল্প ও ব্যবসা খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে পড়ে। ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে।
ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সমস্যার ব্যাপ্তি ও জটিলতা সম্পর্কে আপনারা আগে থেকেই অবগত। সরকার সমস্যাগুলো আড়াল না করে খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছে। এতটুকু আমরা আপনাদের জানাতে চেয়েছি যে, আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। সে জন্য হতাশ হওয়ার মতো কোনো কারণ নেই।’
গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা ও উদ্দেশ্য গণমাধ্যমের মাধ্যমে পরিষ্কারভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। তা না হলে বিচ্ছিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। বড় কোনো লক্ষ্য অর্জনে কার্যকর দলগত প্রচেষ্টা প্রয়োজন এবং সরকার সেইভাবেই কাজ করছে, যাতে মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়।
তিনি বলেন, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জনগণ সময়মতো সিদ্ধান্ত নেবে তারা কাকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেবে। তবে যে সরকার যখন দায়িত্বে থাকে, তাকে তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া উচিত।
মতবিনিময় সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ এবং জ্বালানি সচিব মো. জিয়াউল হক উপস্থিত ছিলেন।
ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের (আইসিসি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, বিজেএমএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কামাল, চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হক এবং বাপা সভাপতি মাহবুব আনাম উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের মধ্যে দৈনিক মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ড. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ইংরেজি দৈনিক ওয়াদা’র সম্পাদক শফিকুল আলম, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, মোস্তফা ফিরোজ, আব্দুন নূর তুষার, আকবর হোসেন, শাহেদ আলম, রেজাউল করিম রনি, আজিজুর রহমান রিপন, তরিকুল ইসলাম সৌরভ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহরিন ইসলাম খান আলোচনায় অংশ নেন।
মন্তব্য করুন