তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১২ ঘন্টা আগে, ০৪:৫২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

তেল সংকটে দেশের একমাত্র শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি বন্ধ

অপরিশোধিত তেলের তীব্র সংকটের মুখে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড (ইআরএল) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে কারখানাটিতে শেষবারের মতো পরিশোধন কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নেয়।

ইআরএল কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শোধনাগারটি সচল রাখতে গত কয়েকদিন ধরে কক্সবাজারের মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) পাইপলাইনে জমে থাকা ৫ হাজার টন তেল এবং স্টোরেজ ট্যাংকের তলানিতে পড়ে থাকা ‘ডেড স্টক’ পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়েছে। সাধারণত দৈনিক গড়ে ৪ হাজার ৫০০ টন তেল পরিশোধন করার সক্ষমতা থাকলেও সংকটের কারণে গত মাস থেকে তা কমিয়ে ৩ হাজার ৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়েছিল। বর্তমানে ব্যবহারযোগ্য তেলের মজুত ২ হাজার টনের নিচে নেমে আসায় কার্যক্রম চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে গত প্রায় দুই মাস ধরে দেশে অপরিশোধিত তেল আমদানি বন্ধ রয়েছে। বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানির পর ইআরএলে পরিশোধন করা হয়। আমদানির পরবর্তী চালান আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহের আগে আসার সম্ভাবনা নেই, ফলে ততক্ষণ পর্যন্ত শোধনাগারটি বন্ধই রাখতে হবে।

দেশের একমাত্র শোধনাগার বন্ধ হয়ে গেলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় ঘটবে না বলে দাবি করেছে জ্বালানি বিভাগ। তাদের মতে, দেশে পরিশোধিত তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, যা দিয়ে বর্তমান চাহিদা মেটানো সম্ভব। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উল্লেখ্য, ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিপিসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে এই বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমান সংকটকালে পরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভর করেই দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটানোর পরিকল্পনা করছে সরকার।

মন্তব্য করুন