তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১৩ ঘন্টা আগে, ০৪:৩৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ডিজিটাল মেশিনের মাধ্যমে সার-বীজ কেনা ও কৃষিঋণ পাবেন কৃষকরা

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণের অঙ্গীকার নিয়ে ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মাথায় ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই যুগান্তকারী প্রকল্পের সূচনা করেন। পহেলা বৈশাখের এই দিনটিকে স্মরণীয় করতে সরকার নতুন বাংলা বছর ১৪৩৩-কে দেশের কৃষক সমাজ ও কৃষি অর্থনীতিকে উৎসর্গ করার ঘোষণা দিয়েছে। আধুনিক ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে কৃষকদের কাছে সরাসরি সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন যে কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হচ্ছে। উপকারভোগীদের মধ্যে বড় একটি অংশ ভূমিহীন ও প্রান্তিক চাষি। জমির মালিকানার ভিত্তিতে কৃষকদের পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করে এই কার্ড দেওয়া হচ্ছে। এতে কেবল শস্য উৎপাদনকারী কৃষকই নয়, বরং মৎস্যজীবী, খামারি এবং লবণচাষিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই কার্ডটি মূলত একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড হিসেবে কাজ করবে, যার জন্য সোনালী ব্যাংকে প্রতিটি কৃষকের নামে একটি পৃথক হিসাব খোলা হয়েছে।

এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা নানা ধরনের বৈপ্লবিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন। কার্ডধারী ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকরা প্রতি বছর সরাসরি ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ আর্থিক সহায়তা পাবেন। এছাড়া ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ, কীটনাশক কেনা এবং সেচ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে এই কার্ডটি ব্যবহৃত হবে। ডিজিটাল পয়েন্ট অব সেল বা পিওএস মেশিনের মাধ্যমে ডিলারদের কাছ থেকে লেনদেন করতে পারবেন কৃষকরা। পাশাপাশি সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি বিমা এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও ফসলের রোগ দমনের পরামর্শও পাওয়া যাবে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে।

সরকার এই বিশাল কর্মযজ্ঞকে তিনটি ধাপে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করেছে। বর্তমানে টাঙ্গাইল, বগুড়া, পঞ্চগড়, ঝিনাইদহ ও পিরোজপুরসহ ১০টি জেলায় প্রাক-পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী আগস্টের মধ্যে পাইলট প্রকল্প শুরু হবে এবং পরবর্তী চার বছরের মধ্যে দেশের ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষক পরিবারের হাতে এই ডিজিটাল কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সুরুজ ব্লকসহ বিভিন্ন কৃষি ব্লকে মঙ্গলবার থেকেই এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন যে বাংলা নববর্ষের শুরুই হয়েছিল কৃষির হাত ধরে, আর বর্তমান সরকার সেই কৃষিকেই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলছে। এই কার্ড চালুর ফলে কৃষি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে সরাসরি সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা কৃষকের হাতে পৌঁছানো সম্ভব হবে। প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ের এই কার্যক্রমের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রায় আট কোটি ৩৪ লাখ টাকা বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন