আহম্মদ কবির,সুনামগঞ্জ

প্রকাশিত: ৫ মার্চ, ২০২৬, ০১:১৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

তাহিরপুরে ৮ বছরেও শেষ হয়নি সেতুর নির্মাণ কাজ, জনদুর্ভোগ চরমে

ছবি: তরুণ কণ্ঠ |

তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা ও পাটলাই নদীর ওপর নির্মাণাধীন দুটি সেতুর কাজ দীর্ঘ ৮ বছরেও শেষ হয়নি। জনপথ বন্ধ থাকার কারণে স্থানীয়রা দৈনন্দিন জীবনে চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি।

 

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে যাদুকাটা নদীর ওপর ৭৫০ মিটার দীর্ঘ শাহ আরেফিন অদ্বৈত মৈত্রী সেতু এবং পাটলাই নদীর ওপর ৪৫০ মিটার দীর্ঘ আরেকটি সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ৩০ মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও,২০২৬ সালেও সেতুগুলো জনসাধারণের জন্য ব্যবহারযোগ্য হয়নি।

 

 

সুনামগঞ্জ এলজিআরডি সূত্র জানায়, যাদুকাটা সেতুর জন্য বরাদ্দ ৮৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকার মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৬৮ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। পাটলাই সেতুর বরাদ্দ ৪৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার মধ্যে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা উত্তোলন হয়েছে। বিপুল অর্থ উত্তোলন করা হলেও কাজের অগ্রগতি এখনও আশানুরূপ নয়।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, যাদুকাটার দুই প্রান্তের কাজ শেষ হলেও মাঝখানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ অসম্পূর্ণ। অন্যদিকে পাটলাই নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি কার্যত ব্যবহারযোগ্য নয়।

 

স্থানীয় বাসিন্দা কলিন আহমেদ বলেন,পাটলাই নদীর ওপর নির্মাণাধীন এই সেতুটি ছিল আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। কিন্তু আজ সেই সেতুই আমাদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংযোগ সড়ক না থাকায় অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে। সামান্য অসাবধানতার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমাদের জোরালো দাবি, দ্রুত সেতুর সংযোগ সড়কসহ নির্মাণ কাজ শেষ করে সেতুটি নিরাপদ যাতায়াতের উপযোগী করা হোক।

 

স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক ইকবাল হোসেন জানান,পাটলাই নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর সংযোগ সড়ক না থাকায় আমরা প্রায় সময় দুর্ঘটনার সম্মুখীন হই। বর্ষায় সামান্য বৃষ্টি হলেই এই সেতু দিয়ে চলাচল অনুপযোগী হয়ে যায়।

 

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সেতুর নির্মাণ কাজের কারণে শিক্ষার্থীরা, রোগী এবং ব্যবসায়ীরা বিশেষ ভোগান্তির মধ্যে পড়ছেন। তাই তারা দ্রুত সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করে নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন

 

মন্তব্য করুন