বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৭:৩৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

মিস ওয়ার্ল্ডের মুকুট থেকে বিশ্বমঞ্চে ঐশ্বরিয়ার দীর্ঘ পথচলা

বলিউড অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ১৯৯৪ সালে মিস ওয়ার্ল্ডের মুকুট জেতেন। প্রতিযোগিতাটির ৪৪তম বিজয়ী এবং ভারতের দ্বিতীয় মিস ওয়ার্ল্ড হওয়ার পর তার পথচলা থেমে থাকেনি। মডেলিং থেকে অভিনয়ে এসে তিনি বলিউডের পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।

বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চে এরপর ভারতের হয়ে আরও অনেক প্রতিযোগী অংশ নিয়েছেন। কেউ মুকুট জিতেছেন, কেউ আবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পেয়েছেন। তবে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের নাম উঠলে আলোচনার পরিধি যেন সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়।

এর সাম্প্রতিক উদাহরণ প্যারিস ফ্যাশন উইক। গত মাসের শেষে লরিয়াল প্যারিসের ‘লে দেফিলে’ অনুষ্ঠানে কালো ভেলভেটের পোশাক, ক্রিস্টালখচিত কেপ, মাথায় টায়ারা এবং নতুন বারগান্ডি-লাল চুলে র‍্যাম্পে হাঁটেন ঐশ্বরিয়া।

সেখানে তার সঙ্গে ছিলেন কেন্ডাল জেনার, সেলিন দিওঁ, ভায়োলা ডেভিস, ইভা লঙ্গোরিয়া ও সিমোন অ্যাশলিসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পরিচিত তারকারা। তাদের উপস্থিতির মধ্যেও ঐশ্বরিয়ার সাজ ও উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলাদা করে আলোচনায় আসে।

প্রশ্ন উঠতে পারে, নতুন প্রজন্মের অসংখ্য তারকা, মডেল ও সুন্দরীর ভিড়েও কেন ঐশ্বরিয়া এখনো এতটা আলোচনায়? এর একটি কারণ তার দীর্ঘ ক্যারিয়ার ও সময়ের সঙ্গে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপনের প্রবণতা।

ঐশ্বরিয়ার পরিচয় শুধু সাবেক বিশ্বসুন্দরীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি অভিনেত্রী হিসেবে কাজ করেছেন, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর একটি হলো ফ্যাশনে পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা। কান চলচ্চিত্র উৎসবে তার উপস্থিতিতে কখনো ভারতীয় পোশাক, কখনো আন্তর্জাতিক ধাঁচের গাউন, আবার কখনো পরীক্ষামূলক সাজ দেখা গেছে।

২০০২ সালে হলুদ শাড়ি পরে কান চলচ্চিত্র উৎসবে উপস্থিত হওয়ার পর দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন ধরনের সাজে সেখানে হাজির হয়েছেন ঐশ্বরিয়া। প্রতিবারই নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা তার উপস্থিতিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।

কান চলচ্চিত্র উৎসকের ২০০৩ সালের জুরি সদস্যও ছিলেন ঐশ্বরিয়া। একই উৎসবে তার অভিনীত ‘দেবদাস’ প্রদর্শিত হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার উপস্থিতি দীর্ঘদিনের। ফ্যাশন ও চলচ্চিত্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে নিয়মিত উপস্থিতির কারণে ‘গ্লোবাল’ পরিচয়টিও তার ক্যারিয়ারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

একজন সুন্দরীকে ক্যামেরার সামনে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব। কিন্তু কয়েক দশক ধরে দর্শকের দৃষ্টি ধরে রাখা ভিন্ন বিষয়। ঐশ্বরিয়ার ক্ষেত্রে চেহারা, চোখ, অভিব্যক্তি, পোশাক বহন করার ধরন ও ক্যামেরার সামনে উপস্থিতি মিলিয়ে একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি তৈরি হয়েছে।

২০২৬ সালের প্যারিস ফ্যাশন উইকেও তার উপস্থিতিতে সেই বিষয়টি দেখা গেছে। বিশ্বখ্যাত তারকাদের সঙ্গে একই র‍্যাম্পে হাঁটলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি ও ভিডিও আলাদাভাবে আলোচনায় আসে।

প্রতি বছর সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে নতুন মুখ আসেন। তাদের কেউ মডেলিং, কেউ অভিনয় কিংবা অন্য পেশায় যুক্ত হন। তাই একজন মিস ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আরেকজনকে সরাসরি তুলনা করার সুযোগ সীমিত।

ঐশ্বরিয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী পরিচিতির পেছনে তার ক্যারিয়ারের বহুমাত্রিকতাই গুরুত্বপূর্ণ। মিস ওয়ার্ল্ডের মুকুট থেকে বলিউড, সেখান থেকে কান চলচ্চিত্র উৎসব, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড এবং প্যারিসের ফ্যাশন র‍্যাম্প—বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চের সঙ্গে নিজের পরিচয়কে যুক্ত করেছেন তিনি।

সৌন্দর্য ব্যক্তিভেদে ভিন্নভাবে মূল্যায়িত হতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে নিজের পরিচিতি ধরে রাখার পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে স্টাইল ও উপস্থাপনায় পরিবর্তন এনেছেন ঐশ্বরিয়া। ১৯৯৪ সালের বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চ থেকে শুরু হওয়া সেই পরিচিতি এখনো নতুন প্রজন্মের দর্শকদের মধ্যেও আলোচনায় রয়েছে।

মন্তব্য করুন