গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ০৫:৩৪ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

গাছ কেটে রাস্তা, বনের জমিতে নির্মাণসামগ্রী—ভাওয়াল রেঞ্জে দখলবাজির অভিযোগ

গাজীপুরের ভাওয়াল রেঞ্জ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাল-গজারি বনাঞ্চল। তবে দিন দিন বন দখল, গাছ কেটে রাস্তা নির্মাণ এবং বনভূমিতে স্থাপনা তৈরির কারণে এই বনাঞ্চল হুমকির মুখে পড়েছে। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যেই চলছে বনভূমি দখল ও নির্মাণকাজ। এসব কাজে বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশের অভিযোগও উঠেছে।
সরেজমিনে ভাওয়াল রেঞ্জের পশ্চিম বিট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বনভূমির ভেতর দিয়ে রাস্তা তৈরি করে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে নির্মাণসামগ্রী নেওয়া হচ্ছে। কোথাও আবার বনের জমিতেই রাখা হয়েছে ইট, বালু ও খোয়া। অভিযোগ রয়েছে, এসব কাজে বনের গাছ কেটে রাস্তা তৈরির ঘটনাও ঘটছে।
পশ্চিম বিটের নয়নপুর বড়ইবাগান এলাকায় সাহাবুল নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যাহার এস এ খতিয়ান নং ২৮৭ দাগ নং ১৭২৩ আর এস ৫০। এই জমিটি ২০২৩ সালের মার্চ মাসের ২৮ তারিখে বন বিভাগকে বিবাদিস করে উপজেলা ভূমি অফিসে যৌথ সিমানা নির্ধারণের জন্য সাহাবুল সহ সাত জন আবেদন করে যাহার মামলা নং ৩৪/২৩। স্থানীয়দের দাবি, জমিটি ডিমার্কেশন/সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় থাকলেও সেখানে বন বিভাগের এফডি খুঁটি রয়েছে। ভবন নির্মাণের মালামাল আনা-নেওয়ার জন্য গজারি গাছ কেটে রাস্তা তৈরি করে বনের জমিতে নির্মাণসামগ্রী রাখার অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কাজে আকবর আলী নামে বন বিভাগের কথিত এক দালাল সহযোগিতা করছেন। তার বিরুদ্ধে বন থেকে গাছ কাটাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পশ্চিম নয়নপুর এয়ারফোর্স সড়কসংলগ্ন এলাকায় খন্দকার বদরুল আলম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও ডিমার্কেশন ছাড়াই বাড়ি নির্মাণ এবং বনের জমিতে নির্মাণসামগ্রী রাখার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এখানেও আকবর আলী সহযোগিতা করছেন। ওই এলাকায় বন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ভবন নির্মাণের কাজ তার মাধ্যমে পরিচালিত হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
হোতাপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির পূর্ব পাশে কুমিল্লা হোটেলের মালিক সোলাইমানের নির্মাণাধীন ভবনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, বিট কর্মকর্তারা একাধিকবার সেখানে চারা রোপণ করলেও পরে সেগুলো উধাও হয়ে যায়। এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বর্তমানে ওই এলাকায় বনের জমিতে ইট, বালু ও খোয়া রেখে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে পশ্চিম বিটের বিট কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও রিসিভ না করার কারণে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
তবে এই বিষয় ভাওয়াল রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন এই অভিযোগের বিষয় গুলো যেহেতু আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি আমি দেখে প্রয়োজনীয় ব‍্যবস্থা গ্রহণ করবো। আর এতে যদি আমার কর্মকর্তা কর্মচারি কেউ জরিত থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও ব‍্যবস্থা গ্রহণ করবো।

মন্তব্য করুন