প্রকাশিত: ৪২ মিনিট আগে, ১১:৩৩ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশে ২০২৬ সালে হামের বিস্তার নিয়ে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্কতা জানিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৫৮টি জেলায় হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল। ওই সময়ে ১৯ হাজারের বেশি সন্দেহজনক রোগী এবং ১৬৬টি সন্দেহজনক হামে-সম্পর্কিত মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। আক্রান্তদের বড় অংশই ছিল পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।
হাম মিজলস ভাইরাসের সংক্রমণে হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি ও হাঁচির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাস এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এ রোগ ছড়াতে পারে। ভাইরাস বাতাসে বা সংক্রমিত পৃষ্ঠে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে।
সংক্রমণের কয়েক দিন পর সাধারণত হামের লক্ষণ দেখা দেয়। প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
সাধারণত ফুসকুড়ি মুখমণ্ডল থেকে শুরু হয়ে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তি ফুসকুড়ি ওঠার চার দিন আগে থেকে চার দিন পর পর্যন্ত অন্যকে সংক্রমিত করতে পারেন।
হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। চিকিৎসায় মূলত পর্যাপ্ত পানি ও তরল, পুষ্টিকর খাবার এবং উপসর্গ অনুযায়ী পরিচর্যার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ডায়রিয়া বা বমির কারণে পানিশূন্যতা হলে তরল ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে হয়।
হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য ভিটামিন ‘এ’-এর দুটি ডোজ দেওয়ার সুপারিশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। প্রথম ডোজ রোগ নির্ণয়ের সময় এবং দ্বিতীয় ডোজ ২৪ ঘণ্টা পর দেওয়া হয়। তবে বয়স অনুযায়ী ডোজ চিকিৎসকের পরামর্শে নির্ধারণ করতে হবে।
নিউমোনিয়া, কানের বা চোখের ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের মতো জটিলতা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হতে পারে। হামে আক্রান্ত হলেই অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না।
শিশুর শ্বাসকষ্ট, পানিশূন্যতা, বারবার বমি, খিঁচুনি বা গুরুতর অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান। বাংলাদেশের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে হামের টিকা বা মিজলস-রুবেলা (এমআর) টিকার দুই ডোজ ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দেওয়ার সুপারিশ রয়েছে।
শিশুর টিকা নেওয়া হয়নি বা কোনো ডোজ বাদ পড়েছে কি না, তা টিকাকার্ড দেখে নিশ্চিত করতে হবে। হামের প্রাদুর্ভাবের সময় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ৯ মাসের আগেও অতিরিক্ত টিকা দেওয়ার কর্মসূচি থাকতে পারে; এ ক্ষেত্রে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের কাছ থেকে আলাদা রাখা এবং কাশি-হাঁচির সময় শিষ্টাচার মেনে চলা জরুরি। হাত পরিষ্কার রাখা এবং চোখ-মুখে অপ্রয়োজনে হাত না দেওয়ার অভ্যাসও বজায় রাখতে হবে।
শিশুর জ্বরের সঙ্গে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। হামের প্রকোপের সময়ে বিশেষ করে টিকাবিহীন ও কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে অবহেলা না করে চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন