তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ০৩:৩১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের লাশ দেশে ফিরছে স্বজনরা

কাতার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের লাশ দেশে ফিরছে। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে পার্ক সার্কাস এলাকার ‘পিস ওয়ার্ল্ড’ হিমঘর থেকে লাশগুলো বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়।

নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। কুষ্টিয়ার বাসিন্দা দেবাশীষ দত্তের স্বজনরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন তারা, কিন্তু এখন লাশ হয়ে দেশে ফিরছেন। এক স্বজন বলেন, “মৃত শিশুটার দিকে তাকাতে পারছি না।”

পরিবারের সদস্য ফিরোজ হাসান জানান, দেশে পৌঁছেই নিহতদের দাফন ও শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দেবাশীষ দত্ত ও তার সন্তান শর্ণশীষ দত্তের সৎকার হবে সনাতন ধর্মে, আর তার স্ত্রী আফসানা শারমীন ও শ্বশুর মো. আকরাম আলীর দাফন হবে মুসলিম রীতিতে।

একই ঘটনায় নিহত ঢাকার সাভারের আহামেদ বাবুর স্বজনরা জানান, বাংলাদেশ মিশন ও কলকাতা পুলিশের সহযোগিতা না পেলে এত দ্রুত লাশ দেশে আনা সম্ভব হতো না।

কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের কর্মকর্তারা পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করেন। ডেপুটি হাইকমিশনার মো. খালেদ জানান, দুর্ঘটনার পর আইনি প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় কিছুটা সময় লেগেছে।

স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিকের লাশ সড়কপথে বেনাপোল সীমান্ত হয়ে দেশের উদ্দেশে রওনা হয়। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, সন্তান শর্ণশীষ দত্ত, মো. আকরাম আলী এবং আহামেদ বাবু।

অন্যদিকে, সাতক্ষীরার বাসিন্দা এস এম আলিমুজ্জামানের লাশ ঘোজাডাঙ্গা-ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে পাঠানো হয়েছে। আর রেবতী সরকারের লাশ কলকাতাতেই রেখে নিমতলা শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশি ও দুই ভারতীয় নাগরিক নিহত হন। ময়নাতদন্ত, শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্রসহ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শুক্রবার রাতে লাশগুলো হিমঘরে রাখা হয়।

নিহতদের লাশ দ্রুত দেশে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যয়ভার বহন করছে কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশন।

স্বজনদের কান্না আর শোকে ভারাক্রান্ত পরিবেশে একে একে দেশে ফিরছে সেইসব মানুষ, যারা চিকিৎসা ও সুস্থ জীবনের আশায় বিদেশে গিয়েছিলেন, কিন্তু ফিরছেন নিথর দেহে।

মন্তব্য করুন