তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ১২:১৯ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

বর্ষায় তেনাচিড়া বিল যেন উত্তরবঙ্গের ‘মিনি কক্সবাজার’

ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ঘুড়িদহ ইউনিয়নের তেনাচিড়া বিলে বর্ষায় এলজিইডির নির্মাণাধীন সড়কের চারদিকে জলরাশি। ভাসছে সাদা শাপলা ও গোলাপি পদ্ম। ছোট ছোট নৌকা বয়ে যাচ্ছে বিলের বুকে। মাঝখান দিয়ে চলে গেছে সরু আঁকাবাঁকা পাকা সড়ক। দুই পাশে সারি সারি গাছ।

দুই পাশের সবুজ গাছপালা, শীতল বাতাস, ঢেউ খেলানো জলরাশি আর সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য যেনো উত্তরবঙ্গের দর্শনার্থীদের কাছে এক টুকরো ‘মিনি কক্সবাজার’।

প্রতিদিন বিকেল হলেই সাঘাটা, গাইবান্ধা, বগুড়া, রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ছুটে আসছেন এখানে। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে, আবার কেউ প্রকৃতির সৌন্দর্য ক্যামেরাবন্দি করতে আসছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও আলোকচিত্রীদের উপস্থিতিও দিন দিন বাড়ছে। শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নয়, শাপলা-পদ্মে ভরা বিল আর ছোট ছোট ডিঙি নৌকার দৃশ্যও দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। অনেকেই নৌকায় ভেসে বিল ঘুরে দেখছেন। কেউ কেউ হাঁটুসমান পানিতে নেমে গোসল করে উপভোগ করছেন বর্ষার নির্মল পরিবেশ। শিশুদের হাসি, পানির কলকল শব্দ আর পাখির ডাক মিলিয়ে পুরো এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে এক প্রশান্তিময় আবহ।

বগুড়া থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী জসিম উদ্দিন বলেন, পরিবার নিয়ে এখানে এসে খুব ভালো লাগছে। বিলে নেমে গোসল করেছি, প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করেছি। এমন পরিবেশে কিছুক্ষণ থাকলেই মন ভালো হয়ে যায়।

মোকামতলা এলাকা থেকে ঘুরতে আসা সাব্বির রহমান বলেন, বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে এখানে এসে ভালোই আনন্দ উপভোগ করা গেল।

নৌকার মাঝি নজরুল ইসলাম বলেন, বর্ষাকাল এলেই তেনাচিড়া বিল নতুন প্রাণ ফিরে পায়। আমরা নৌকা চালিয়ে কিছু টাকা ইনকাম করি।

কলেজ শিক্ষক মাইদুল ইসলাম বলেন, গাইবান্ধার সাঘাটার এই মিনি কক্সবাজার দেখতে এসেছি। এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য খুব কম জায়গায় দেখা যায়। জায়গাটি সংরক্ষণ করা গেলে এটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম দর্শনীয় পর্যটনকেন্দ্র হতে পারে।

বগুড়া থেকে ঘুরতে আসা সাংবাদিক ও লেখক প্রতীক ওমর বলেন, তেনাচিড়া বিল শুধু একটি বিল নয়, এটি গ্রামবাংলার প্রকৃত সৌন্দর্যের প্রতিচ্ছবি। শাপলা-পদ্ম, জলরাশি, নৌকা আর সূর্যাস্তের অপূর্ব সমন্বয় যে কাউকে মুগ্ধ করবে। পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা গেলে এটি দেশজুড়ে পরিচিত একটি ইকো-ট্যুরিজম স্পট হয়ে উঠতে পারে।

স্থানীয় ঘুড়িদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম আহম্মেদ তুলিপ বলেন, তেনাচিড়া বিল প্রতিবছরই বর্ষায় বিনোদনপ্রেমীদের আনন্দের খোরাক জোগায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আসাদুজ্জামান জানান, এ বছর টানা বৃষ্টিপাতের কারণে তেনাচিড়া বিলে পর্যাপ্ত পানি জমেছে। একটি রাস্তার কিছু অংশ তলিয়ে গেছে। ফলে বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আগের তুলনায় অনেক বেশি ফুটে উঠেছে।

মন্তব্য করুন