প্রকাশিত: ৪ ঘন্টা আগে, ০৯:৩৭ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়ে স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে নগরীর কাট্টলি এলাকায় মনজুর আলমের বাসভবনে এই ঘটনা ঘটে।
সাক্ষাৎ শেষে হাসনাত আবদুল্লাহ বাসা থেকে বের হওয়ার সময় সেখানে উপস্থিত একদল লোক তাঁকে ঘিরে ধরেন। নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দিয়ে তাঁরা হাসনাত আবদুল্লাহর কাছে সাবেক মেয়রের সঙ্গে দেখা করার কারণ জানতে চান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা প্রশ্ন করছেন— কেন একজন জুলাই যোদ্ধা হয়ে এবং সংসদে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি তুলে তিনি ‘আওয়ামী লীগের দোসরের’ বাসায় এসেছেন। উল্লেখ্য, মনজুর আলম বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁদের শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং পরে একজনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরের মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে, হাসনাত আবদুল্লাহ ব্যক্তিগত কাজে চট্টগ্রামে এসে সাবেক মেয়রের আমন্ত্রণে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। মনজুর আলমও একে কেবলই ‘বেড়ানো’ ও ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে যে, এনসিপির প্রার্থী হিসেবে আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে লড়তে পারেন মনজুর আলম। এনসিপির পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দুই নেতার মধ্যে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলাপ হয়েছে।
মোহাম্মদ মনজুর আলম ২০১০ সালে বিএনপির সমর্থনে মেয়র নির্বাচিত হয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন। সে সময় তিনি তাঁর রাজনৈতিক গুরু এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে পরাজিত করেছিলেন। ২০১৫ সালে নির্বাচনের দিন ভোট বর্জন করে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। এরপর ২০১৮ ও ২০২০ সালে তিনি দুই দফায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েও ব্যর্থ হন। যদিও তিনি আওয়ামী লীগের কোনো আনুষ্ঠানিক পদে ছিলেন না, তবুও আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাঁর সখ্যতাকে কেন্দ্র করেই বর্তমান ছাত্র-জনতার পক্ষের কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এনসিপির শীর্ষ নেতার এই ঝটিকা সফর এবং সাবেক মেয়রের সঙ্গে বৈঠক চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। একদিকে এনসিপির ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক পরিকল্পনা, অন্যদিকে স্থানীয় কর্মীদের ক্ষোভ— সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন টক অফ দ্য টাউন।
মন্তব্য করুন