প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ০৯:৩২ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
জাঁকজমকপূর্ণভাবে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের প্রথমদিনকে বরণ করে নিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। 'বৈশাখের আবাহন, ঐক্য-শান্তি-উত্তরণ'-কে প্রতিপাদ্য নিয়ে দুইদিনব্যাপী আয়োজনের প্রথমদিনের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ সাজিদ ভবনের নিচতলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে এ আয়োজনের সূচনা হয়।
এরপর সকাল নয়টায় বর্ণাঢ্য 'বৈশাখী শোভাযাত্রা' বের করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোঃ রইছ উদ্দীন-এর নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে রায়সাহেব বাজার ও ভিক্টোরিয়া পার্ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ক্যাম্পাসে এসে সমাপ্ত হয়। চারুকলা অনুষদের আয়োজনে শোভাযাত্রায় চলমান যুদ্ধ-বিগ্রহের মাঝে শান্তির প্রতীক হিসেবে বড় 'শ্বেত পায়রা' ও বর্ণিল মোরগের প্রতিকৃতি প্রদর্শন করা হয়। এছাড়াও শোভাযাত্রায় পাখি, চরকি, সূর্যমুখী ফুল ও ফড়িংসহ বিভিন্ন নান্দনিক লোকজ মোটিফ প্রদর্শন করা হয়।
শোভাযাত্রায় ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক সাবিনা শরমীন, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালকবৃন্দ, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, প্রক্টর, প্রভোস্টবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক, ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ অন্যান্যরা অংশগ্রহণ করেন।
বর্ষবরণ উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৈশাখী মেলা, নাগরদোলা, কনসার্ট, বাউল ও লোকজ সংগীত পরিবেশনা, আদিবাসী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবেশনা এবং বইমেলা আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতির অংশ হিসেবে মসজিদে দোয়া এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনার ব্যবস্থাও রাখা হয়।
দুইদিন ব্যাপি আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রও অংশগ্রহণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পুরান ঢাকার কলেজিয়েট স্কুল, হিড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, গভ. মুসলিম হাই স্কুল, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি এবং পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।
অনুষ্ঠানে সংগীতানুষ্ঠান আয়োজন করবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ। প্রথম দিন লোকজ সংগীত পরিবেশনা করেন আব্দুল কুদ্দুস বয়াতী এবং দ্বিতীয় দিনের কনসার্টে থাকবে লালন ব্যান্ড। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, আবৃত্তি সংসদ, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রঙ্গভূমি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ব্যান্ড মিউজিক এসোসিয়েশনের পরিবেশনা করে।
নববর্ষ উপলক্ষ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) খেলাধুলা ও ঐতিহ্যবাহী দেশীয় খাবারের আয়োজন করেছে। জকসুর আয়োজনে মোরগ লড়াই, রশি টানাটানি, বালিশ খেলা, ঝুড়িতে বল নিক্ষেপ, বৈশাখী ফটোফ্রেম ও জকসুর স্টলে বই প্রদর্শন করা হয়। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে মুড়ি-মুড়কি, বাতাসা, কদমা এবং চায়ের ব্যবস্থা করা হয়।
এছাড়াও পহেলা বৈশাখ উদযাপনে পৃথক আয়োজন করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। মোরগ লড়াই, বালিশ খেলা ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন তারা।
মন্তব্য করুন