প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৬:৩৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান স্টেট থেকে সিনেটর নির্বাচিত হয়ে দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন তিনি। রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সকে পরাজিত করে এ বিজয় অর্জন করেন ৪২ বছর বয়সী এই রাজনীতিক।
৪ নভেম্বর বুধবার প্রকাশিত এনবিসি নিউজের সর্বশেষ নির্বাচনী হিসাব অনুযায়ী, ৮৬ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট গণনা পর্যন্ত আবদুল এল-সায়েদ পেয়েছেন ২২ লাখ ২৬ হাজার ৭৮৪ ভোট, যা মোট ভোটের ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স পেয়েছেন ১৯ লাখ ৮৩ হাজার ৪৭৭ ভোট বা ৪৬ দশমিক ২ শতাংশ। দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ২ লাখ ৪৩ হাজার ৩০৭। এ সময় পর্যন্ত ভোট গণনা সম্পূর্ণ হয়নি।
মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান আবদুল এল-সায়েদের জন্ম মিশিগানে। তাঁর বাবা-মা মিশর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেন। পেশায় চিকিৎসক, মহামারিবিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ তিনি। এর আগে ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন চেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সফল হননি। আট বছর পর সিনেট নির্বাচনে জয়লাভ করে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান সুসংহত করলেন তিনি।
নির্বাচনী প্রচারণায় তাঁর প্রধান অঙ্গীকার ছিল সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, ধনকুবের ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক প্রভাব সীমিত করা এবং নির্বাচনী অর্থায়নে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করা। তিনি ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ কর্মসূচির পক্ষে প্রচারণা চালান। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে সরকারি অর্থায়নে সব মার্কিন নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন ইস্যুতেও তাঁর অবস্থান ছিল স্পষ্ট। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি এবং ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এসব বক্তব্যের কারণে নির্বাচনী প্রচারণায় ইসরায়েলপন্থী বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর বিরোধিতার মুখে পড়তে হয় তাঁকে।
নির্বাচনী প্রচারণায় তাঁর মুসলিম পরিচয় নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ রিপাবলিকান শিবিরের কয়েকজন নেতা তাঁর ধর্মীয় পরিচয় ও কথিত মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এল-সায়েদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচনী লড়াইয়ে এল-সায়েদের প্রচারণা ব্যাপক জাতীয় মনোযোগ আকর্ষণ করে। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্সকে পরাজিত করে তিনি চূড়ান্ত নির্বাচনে মনোনয়ন পান। তাঁর প্রচারণায় বার্নি স্যান্ডার্স ও আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজের মতো প্রগতিশীল নেতারা সমর্থন দেন। অন্যদিকে ইসরায়েলপন্থী সংগঠন এআইপ্যাক তাঁর বিরোধিতায় প্রায় ৩ কোটি ডলার ব্যয় করে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ২০০৬ সালে কিথ এলিসন প্রথম মুসলিম হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে ইলহান ওমর ও রাশিদা তালাইবসহ আরও কয়েকজন মুসলিম প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে এর আগে কোনো মুসলিম ব্যক্তি নির্বাচিত হননি। আবদুল এল-সায়েদের বিজয়ের মধ্য দিয়ে এবার সেই ইতিহাসের পরিবর্তন ঘটল।
অবসর নিতে যাওয়া ডেমোক্রেটিক সিনেটর গ্যারি পিটার্সের ছেড়ে দেওয়া আসনে নির্বাচিত হয়েছেন এল-সায়েদ। নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের কথা রয়েছে।
তাঁর এই বিজয় শুধু একজন মুসলিম রাজনীতিকের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে মুসলিম ও অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন