প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
আঙ্কারা/তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তুরস্ককে দখলদার ইসরায়েল তাদের নতুন শত্রু হিসেবে ঘোষণা করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা আনাদোলু নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেন।
শত্রু ছাড়া ইসরায়েল টিকতে পারে না: হাকান ফিদান
হাকান ফিদান বলেন, ইসরায়েল সম্ভবত ইরানের পর এখন তুরস্ককে তাদের পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু বা শত্রু হিসেবে বিবেচনা করছে। তাঁর মতে, ইসরায়েল এমন একটি রাষ্ট্র যা কোনো শত্রু ছাড়া নিজেদের অস্তিত্ব টেকসই করতে পারে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যেই ইসরায়েল নতুন শত্রু খুঁজে নেওয়ার কৌশল অবলম্বন করছে।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক বৈঠকটি ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও হাকান ফিদান মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে যথেষ্ট ‘আন্তরিক’। গত শনিবার পাকিস্তানের রাজধানীতে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে ফিদান বিশ্বাস করেন, সমঝোতার সম্ভাবনা এখনও শেষ হয়ে যায়নি।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন চুক্তির ক্ষেত্রে একটি প্রধান শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় বলেন, মার্কিন সরকার যদি তাদের ‘স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব’ এবং আধিপত্যকামী আচরণ পরিত্যাগ করে ইরানের জনগণের জাতীয় অধিকারের প্রতি সম্মান দেখায়, তবেই একটি সম্মানজনক চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব।
পেজেশকিয়ান ইসলামাবাদে দায়িত্ব পালন করা ইরানি প্রতিনিধি দলের সদস্য এবং স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফকে তাঁদের প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত থাকলেও ইরান তাদের জাতীয় স্বার্থ ও অধিকারের বিষয়ে কোনো আপস করবে না।
মধ্যপ্রাচ্যে যখন একদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাতের মেঘ জমছে, অন্যদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সতর্কবার্তা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে বাড়তে থাকা এই বৈরিতা আগামী দিনে আঞ্চলিক রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
মন্তব্য করুন