প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৪:২৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
রাজধানী ঢাকাকে ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন সিটি’-এ রূপান্তর করতে সরকার ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজধানী ঢাকাকে ‘ক্লিন এবং গ্রিন’ সিটি রূপে গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে নানাবিধ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। নাগরিক সচেতনতা ও সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের পাশাপাশি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনগুলো আধুনিকায়নে ল্যান্ডস্কেপিং, সবুজায়ন ও সচেতনতামূলক গ্রাফিতি কাজ অন্তর্ভুক্ত করে পরিবেশসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু রয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কোরিয়াভিত্তিক এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে সমন্বিত সার্কুলার ইকোনমিভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তরের মাধ্যমে সব বর্জ্যকে ‘জিরো বর্জ্যে’ পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আশা করি, এ সকল কার্যক্রম ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা শহর গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বেলা ১১টায় শুরু হওয়া এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত আটটি প্রশ্নের মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ে দুটির জবাব দেন তিনি।
পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকা দক্ষিণের রোড মিডিয়ান, সড়ক দ্বীপ ও উন্মুক্ত স্থানে বৃক্ষরোপণ শুরু হয়েছে। উত্তর সিটি করপোরেশন মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে নগর বনায়ন করছে এবং আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এছাড়া মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের খালি জায়গাতেও গাছ লাগানো হবে।
পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) সমন্বিতভাবে আধুনিক বাস সার্ভিস ও ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় বায়ুদূষণের প্রধান উৎস চিহ্নিত করে কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন ও নির্মাণকাজের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। ঢাকার চারপাশে অবস্থিত অবৈধ ইটভাটা বন্ধে অভিযান জোরদার এবং সাভার উপজেলাকে ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণা করে ইটভাটা ও খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নদীদূষণ রোধে তরল বর্জ্য নির্গমনকারী প্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করে ২৪৮টি প্রতিষ্ঠানে এটি চালু করা হয়েছে এবং রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণে ক্যামেরা বসানো চলছে। বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগ নদী এবং ঢাকার ১৯টি প্রধান খালের দূষণের উৎস ও প্রকৃতি ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বন অধিদপ্তর, দুই সিটি করপোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সড়ক ও জনপথ বিভাগ যৌথভাবে রাস্তার মিডিয়ান, খালের পাড় ও জলাশয় এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির ৪১ হাজার ৫৬৫টি চারা রোপণ করেছে। পাশাপাশি মাটি ঢেকে রাখতে লতা, গুল্ম ও ঘাস রোপণ করা হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকাকে সবুজ করে গড়ে তুলতে বনায়নযোগ্য সব খালি জায়গায় গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
মন্তব্য করুন