প্রকাশিত: ৮ ঘন্টা আগে, ১২:৩৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন। আজ রোববার বাংলাদেশ সময় ভোরে বিষয়টি জানিয়েছে ইরান। মৃত্যুর ১১ দিন আগে সবশেষ বারের মতো তিনি জনসম্মুখে বক্তৃতা দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি প্রতিরোধক অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছিলেন।
জেনেভায় যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছিল, তখন তিনি এই বক্তৃতা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন,
“আমাদের প্রতিরোধক অস্ত্র থাকতেই হবে, যদি কোনো দেশের কাছে তা না থাকে, তাহলে এটা তার শত্রুদের পায়ের তলায় মিশে যেতে বাধ্য হয়।”
“প্রতিরোধক অস্ত্র আমাদের দেশের জন্য অতি জরুরি একটি বিষয়। আমেরিকানরা কোনো কারণ ছাড়াই এখানে নাক গলাচ্ছে। তারা বলে ‘তোমার এমন ধরনের মিসাইল থাকতে হবে, তোমার রেঞ্জ এতটুকু হতে পারবে, এর চেয়ে বেশি নয়’! এর মানে কী! তাতে তোমাদের সমস্যা কোথায়? এই ব্যাপারটা তো ইরানি জাতির।”
যুক্তরাষ্ট্রকে সেদিন তিনি কঠোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন। তিনি যোগ করেন,
“তাদের কাছে মনে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টও বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী; বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীও কখনো কখনো শক্তিশালী থাপ্পড় খেতে পারে, এতটাই শক্তিশালী যে, এরপর আর তারা উঠে দাঁড়াতে পারে না।”
এই বক্তৃতা দেওয়ার সময় জেনেভায় পরোক্ষ আলোচনা চলছিল। খামেনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, ইরান কখনোই তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে আপস করবে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের চাপকে ‘অযৌক্তিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।
এই বক্তৃতা এখন অনেকের কাছে ‘শেষ সতর্কবার্তা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো এখন এই বক্তৃতার অংশবিশেষ বারবার প্রচার করছে। খামেনির মৃত্যুর পর ইরানে নতুন করে নেতৃত্ব সংকট দেখা দিয়েছে। আইআরজিসি দ্রুত উত্তরসূরি নিয়োগের চাপ দিচ্ছে, যখন অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টসের অধিবেশন যুদ্ধের কারণে সম্ভব হচ্ছে না।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করা হয়েছে। এই পরিষদে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, জুডিশিয়ারি চীফ গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-ইজেই এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন জুরিস্ট।
পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল। ইরানের পক্ষ থেকে প্রতিশোধমূলক হামলা চলছে। আন্তর্জাতিক মহল যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাচ্ছে।
মন্তব্য করুন