আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ ঘন্টা আগে, ১২:২৯ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

খামেনির মৃত্যুর পর ইরানে তিন সদস্যের নেতৃত্ব পরিষদ গঠন, আইআরজিসির চাপ

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আগ্রাসনে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর আলোচনায়—কে হবেন তার উত্তরসূরি। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দ্রুত ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পরবর্তী নেতা নিয়োগের ওপর জোর দিচ্ছে। খবর ইরান ইন্টারন্যাশনালের।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলোর মতে গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, আইআরজিসির অবশিষ্ট কমান্ড কাঠামো আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই—বিশেষ করে রোববার (১ মার্চ) ভোরের আগেই—এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে চাচ্ছিল।

 

তবে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা’র বরাতে জানা গেছে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতার প্রয়ানের পর বিশেষ এই পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব প্রদানের জন্য তিন সদস্যের সমন্বয়ে একটি নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করা হয়েছে।

 

তিন সদস্যের নেতৃত্ব পরিষদ এই পরিষদে রয়েছেন:

  • প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
  • জুডিশিয়ারি চীফ গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-ইজেই
  • গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন জুরিস্ট (এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিল কর্তৃক নির্বাচিত)

এই পরিষদ অস্থায়ীভাবে সুপ্রিম লিডারের দায়িত্ব পালন করবে যতক্ষণ না নতুন লিডার নির্বাচিত হয়।

 

সূত্রগুলো জানায়, চলমান বিমান হামলার কারণে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের সাংবিধানিক দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস-এর অধিবেশন আহ্বান করা সম্ভব নয়। ফলে আইনগতভাবে নির্ধারিত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে পরবর্তী নেতা নিয়োগের জন্য আইআরজিসি চাপ দিচ্ছে।

 

খামেনির মৃত্যুর পর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে কয়েকটি নাম উঠে এসেছে:

  • মোজতাবা খামেনি: খামেনির দ্বিতীয় পুত্র, মধ্যম স্তরের ক্লেরিক। তিনি আইআরজিসির সঙ্গে যুক্ত এবং খামেনির ধনসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখেন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হয়।
  • গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-ইজেই: বর্তমান জুডিশিয়ারি চীফ, পূর্বে গুপ্তচরবাহিনীর প্রধান। তিনি কট্টরপন্থী এবং খামেনির ঘনিষ্ঠ।
  • হাসান খোমেইনি: আয়াতুল্লাহ খোমেইনির নাতি, সংস্কারপন্থী ক্লেরিক। তাঁকে আরও মধ্যপন্থী বিকল্প হিসেবে দেখা হয়।
  • মোহাম্মদ মেহদি মিরবাগেরি: অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টসের সদস্য, কট্টরপন্থী এবং পশ্চিমা-বিরোধী।
  • হোজ্জাতোল-ইসলাম মোহসেন কোমি: খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা, অভ্যন্তরীণ প্রভাবশালী।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, খামেনি কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তরসূরি ঘোষণা করেননি। অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস (৮৮ জন সিনিয়র ক্লেরিকের সমন্বয়ে গঠিত) সাধারণত নতুন সুপ্রিম লিডার নির্বাচন করে। তবে চলমান সংকটে আইআরজিসির প্রভাব বেশি হতে পারে।

 

ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার পর ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামোর ভেতরে বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তি বেড়েছে।

 

সূত্রগুলোর দাবি, কমান্ড চেইনের কিছু অংশ ব্যাহত হয়েছে। আদেশ প্রেরণ ও অপারেশনাল সমন্বয়ে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এতে করে আগামী কয়েক ঘণ্টা ও দিনে মাঠপর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সংকট ব্যবস্থাপনা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

 

এছাড়া কিছু সামরিক কমান্ডার ও নিম্নপদস্থ সদস্য তাদের ঘাঁটি ও সামরিক কেন্দ্রে যোগ দিতে বিরত রয়েছেন বলেও জানা গেছে।

 

সূত্র বরাতে গণমাধ্যমটি বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য অব্যাহত হামলা এবং কমান্ড ও সহায়তা স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই তারা এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

 

আইআরজিসি আরও আশঙ্কা করছে, রোববার সকালে দিনের আলো ফুটলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষ রাস্তায় নেমে আসতে পারে, যা নতুন করে সমাবেশ ও বিক্ষোভের ঢেউ সৃষ্টি করতে পারে।

 

ইরানের সুপ্রিম লিডারের মৃত্যুর পর দেশটির নেতৃত্ব সংকটে পড়েছে। সাংবিধানিকভাবে অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস নতুন লিডার নির্বাচন করে, কিন্তু চলমান যুদ্ধের কারণে অধিবেশন সম্ভব নয়। ফলে অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করা হয়েছে।

 

আইআরজিসি দ্রুত নতুন লিডার নিয়োগ চাইছে, যাতে সামরিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকটে আইআরজিসির প্রভাব বাড়তে পারে, এবং সম্ভাব্য লিডার হিসেবে খামেনির ছেলে মোজতাবা খামেনি বা অন্য কট্টরপন্থী ক্লেরিকের নাম উঠে আসছে।

 

যুদ্ধের কারণে ইরানের সামরিক কমান্ড চেইনে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

মন্তব্য করুন