প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ০৫:৪৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন। এ ছাড়া অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি ও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রেলের অনিয়ম নিয়ে আন্দোলন করে আলোচনায় আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনিও এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন।
আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইডিইবি) এক অনুষ্ঠানে তাঁরা এনসিপিতে যোগ দেন। ‘রাজনৈতিক নেতা ও নাগরিকদের এনসিপিতে যোগদান’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ দলটির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।
ফেরসামিন বিদেশে থাকায় অনুষ্ঠানে সশরীর উপস্থিত থাকতে পারেননি। অন্যরা অনুষ্ঠানের মঞ্চে ছিলেন। নাম ঘোষণার পর ইসহাক সরকার, নুরুজ্জামান কাফি ও মহিউদ্দিন রনিকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন নাহিদ ইসলাম।
এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বিকেল সোয়া তিনটার দিকে আইডিইবিতে এসে পৌঁছান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। এনসিপির নেতা-কর্মীরা তাঁদের স্লোগান দিতে দিতে অনুষ্ঠানস্থলে নিয়ে আসেন।
এর কিছুক্ষণ পর নেতা-কর্মীদের নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন ইসহাক সরকার। এ সময় নেতা-কর্মীরা ‘পুরান ঢাকার ইসহাক ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’, ‘জুলাই যোদ্ধা ইসহাক ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’, ‘দুর্দিনের ইসহাক ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’, ‘এনসিপি-জনতা, গড়ে তোলো একতা’ ইত্যাদি বলে স্লোগান দেন।
সাড়ে তিনটায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। মঞ্চে ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। সবাই দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান। প্রথমে বক্তব্য দেন এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আলাউদ্দীন মোহাম্মদ ও সদস্যসচিব এস এম শাহরিয়ার। বক্তব্য দেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনে এনসিপির মনোনীত প্রার্থী তারেক আহম্মেদ আদেল।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের পর বক্তব্য দেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এনসিপিতে যোগদানকারীদের নাম ঘোষণা করে নাহিদ বলেন, ‘এনসিপিতে কেন্দ্রীয়ভাবে যোগ দিচ্ছেন ফেরসামিন হক ইকবাল। তিনি বিদেশে আছেন। তিনি শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি। বরিশালের কৃতি সন্তান হিসেবে তিনি এনসিপিতে কাজ করবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিতমুখ নুরুজ্জামান কাফিকে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে এনসিপিতে স্বাগত। জুলাইয়ের সহযোদ্ধা মহিউদ্দিন রনিকেও স্বাগত জানাই। আমরা সবাই এনসিপিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাব।’
ইসহাক সরকারকে এই আয়োজনের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ইসহাক সরকারকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ছাত্রদল, যুবদলে তিনি কেন্দ্রীভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তাঁর বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা ছিল। তিনি আমাদের সহযোদ্ধা। তিনি আগে বিরোধী রাজনীতি করেছেন, এখনো বিরোধী রাজনীতিই করবেন।’
এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, ‘ইসহাক সরকার আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। ইসহাক সরকার সব সুযোগ-সুবিধাকে একদিকে ঠেলে দিয়ে জনগণ ও তরুণদের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। ইসহাক সরকারের সঙ্গে তাঁর অসংখ্য অনুসারী এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন। তাঁদেরও স্বাগত জানাই।’
এরপর ইসহাক সরকারসহ এনসিপিতে যোগ দেওয়া নেতাদের একে একে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন নাহিদ ইসলাম। পরে তিনি ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অন্য একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার উদ্দেশে আইডিইবি থেকে চলে যান। এর পর সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের নেতা মাকসুদুর রহমান সোহেলও এনসিপিতে যোগ দেন। এনসিপির অন্য নেতারা তাঁকেও ফুল দিয়ে বরণ করেন।
ইসহাক সরকারসহ সদ্য এনসিপিতে যোগ দেওয়া ব্যক্তিরা এরপর তাঁদের অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন। এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, শীর্ষস্থানীয় নেতা সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
এর আগে গত ১৯ এপ্রিল আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৪৪ জন নেতা এনসিপিতে যোগ দেন। অবশ্য ওই ৪৪ জনের অধিকাংশই ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদের উদ্যোগে গঠিত রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম আপ বাংলাদেশের নেতা-কর্মী।
মন্তব্য করুন