প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১১:০৯ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে চাঁদপুরে পদ্মা-মেঘনায় দুই মাস মাছ ধরা নিষিদ্ধ

আগামীকাল থেকে দুই মাসের জন্য চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে ইলিশসহ সবধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরু।

ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জাটকা সংরক্ষণের লক্ষ্যে দুই মাসের জন্য চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে ইলিশসহ সবধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে।


শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এ সময় মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহণ ও মজুদ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।


জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, জাটকা সংরক্ষণের জন্য জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার নদী অভয়াশ্রম এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। এসব এলাকার প্রায় ৪৭ হাজার নিবন্ধিত জেলে নদীতে মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকবে।


বেকার হয়ে পড়া এসব জেলের মধ্যে ৩৯ হাজার ৪০০ জেলেকে দেওয়া হচ্ছে ভিজিএফের চাল। তারা ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৪ মাস ৪০ কেজি করে মোট ১৬০ কেজি চাল পাবেন।


সরেজমিনে সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের বহরিয়া মেঘনা উপকূলীয় জেলে পল্লী এলাকায় বেশ কয়েকজন জেলের সঙ্গে কথা হয়। তাদের মধ্যে জেলে জাহাঙ্গীর হোসেন শেখ বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় তারা জাল ও নৌকা ডাঙায় উঠিয়ে রাখেন। 


কিন্তু তাদের যে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয় এতে তাদের সংসার চলে না। একই এলাকার জেলে আলী আক্কাছ মাঝি বলেন, মাছ আহরণ করে আমাদের জীবিকা নির্বাহ হয়। অবসর সময়ে বরাদ্দকৃত খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। কারণ শুধু চালে সংসার চলে না। সন্তানদের পড়ালেখা ও ঋণের কিস্তি নিয়ে আমাদের বিপাকে পড়তে হয়।


চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, জাটকা সংরক্ষণে পদ্মা-মেঘনার অভয়াশ্রম এলাকায় সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স। আইন অমান্য করে জাটকা ধরা হলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে।


নৌ পুলিশের চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান বলেন, ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস জাটকা ধরা বন্ধে নৌ পুলিশ সক্রিয় থাকবে। নৌ সীমানার মধ্যে যদি কোনো জেলে আইন অমান্য করে নদীতে নেমে জাটকা নিধন করে তাদের বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


জেলা প্রশাসক ও জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি মো. নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, ইলিশের স্থায়িত্বশীল উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিবছর বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়, যার মধ্যে জাটকা সংরক্ষণ অন্যতম। জাতীয় স্বার্থে অংশীজনদের আরও তৎপর হতে হবে। তিনি জেলেদের জাটকা ধরা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান।


বাংলাদেশে ইলিশ উৎপাদন বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে। জাটকা সংরক্ষণের এই নিষেধাজ্ঞা প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে কার্যকর হয়। এতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং জেলেদের জীবিকা নির্বাহে সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়। তবে জেলেরা বলছেন, শুধু চালের সহায়তা যথেষ্ট নয়—আর্থিক সহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা দরকার।
প্রশাসন জানিয়েছে, অভয়াশ্রম এলাকায় নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগের যৌথ টহল ও অভিযান চলবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে মামলা ও জরিমানা আরোপ করা হবে। 
 

মন্তব্য করুন