প্রকাশিত: ৪১ মিনিট আগে, ১২:৫৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কার মধ্যে ইরানের সীমান্তের কাছাকাছি গিয়ে ফিরে এসেছে ইসরাইলি বিমানবাহিনীর কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান। গত সোমবারের এ অভিযানে যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও অংশ নেয়। ইসরাইলি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
অভিযানটি এমন সময়ে চালানো হলো, যখন ইরানে নতুন করে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনার খবর এসেছে। ফলে যুদ্ধবিমানগুলোর এই উড্ডয়ন ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইল থেকে ৮০০ মাইলেরও বেশি দূরে পরিচালিত এ অভিযানকে ইরানের সামনে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন কর্মকর্তারা। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ইসরাইল সফরের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক ছিল না বলে জানিয়েছেন তাঁরা। সোমবার ইসরাইলের ওভদা বিমানঘাঁটিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন হেগসেথ।
সূত্রগুলোর তথ্যমতে, ইসরাইলি যুদ্ধবিমানগুলো সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা পেরিয়ে ইরানের সীমান্তের দিকে অগ্রসর হয়। তাদের উড্ডয়নপথ ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত পথের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তবে ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ না করে সীমান্তের কাছে পৌঁছানোর পর বিমানগুলো ফিরে আসে।
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযানটিকে প্রশিক্ষণ মহড়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মতে, এর উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে সতর্ক করা এবং ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করা। তবে এ ধরনের তৎপরতা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
অভিযানটি নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের একাংশের মধ্যে ভিন্ন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। তাঁদের ধারণা, ইসরাইল জানত যে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা যুদ্ধবিমানগুলোর গতিবিধি শনাক্ত করতে পারবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযান শুরুর আগেই ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রকে বিষয়টি জানিয়েছিল। ইসরাইল এটিকে প্রশিক্ষণ মহড়া ও শক্তি প্রদর্শনের উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছিল, এর উদ্দেশ্য ছিল আসন্ন নির্বাচনের আগে ইরানকে ইসরাইলে হামলা চালানো থেকে বিরত রাখা।
তবে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, ইসরাইল হয়তো আশা করেছিল ইরান যুদ্ধবিমানগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাবে। এমন প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালানোর অজুহাত তৈরি হতে পারত বলে তাঁদের ধারণা। এটি কর্মকর্তাদের সন্দেহ; ইসরাইলের এমন উদ্দেশ্য ছিল বলে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সূত্র: অ্যাক্সিওস
মন্তব্য করুন