প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৮:০০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় বইছে। নরওয়ে, সুইডেন, পাকিস্তান, স্পেনসহ বিভিন্ন দেশ কড়া ভাষায় এই আগ্রাসনের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে সংঘাত নিরসনের দাবি জানিয়েছে। এবার মুখ খুলল ফ্রান্স। তবে দেশটির প্রেসিডেন্টের প্রতিক্রিয়ার ভাষায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধ দ্রুত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন।
তিনি বলেন, “বিপজ্জনক উত্তেজনা অবশ্যই বন্ধ হতে হবে।”
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন,
“যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধের সূত্রপাত ‘আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনবে’। বর্তমান উত্তেজনা সবার জন্যই বিপজ্জনক। এটি অবশ্যই বন্ধ হতে হবে।”
যুদ্ধে অংশ নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়ে ম্যাক্রন বলেন,
“এই সংকটময় মুহূর্তে আমাদের জাতীয় ভূখণ্ড, আমাদের নাগরিক এবং মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ফ্রান্স তার নিকটতম সহযোগীদের সুরক্ষায় ‘প্রয়োজনীয় সম্পদ মোতায়েন করতে প্রস্তুত, যদি তারা অনুরোধ করে।’”
ইরানের মিনাব শহরে প্রাক-প্রাথমিক মহিলা বিদ্যালয়ে ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫১ স্কুলছাত্রী নিহতের ঘটনার পর ফ্রান্সের এই প্রতিক্রিয়া এসেছে। বিশ্বের অনেক দেশ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানালেও ফ্রান্সের বিবৃতিতে ‘সহযোগীদের সুরক্ষায় সম্পদ মোতায়েনের প্রস্তুতি’র কথা এসেছে, যা ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফ্রান্স ঐতিহ্যগতভাবে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ন্যাটো জোটের সদস্য। তবে ম্যাক্রন প্রশাসন অতীতে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষার চেষ্টা করেছে। বর্তমান বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতির আহ্বানের পাশাপাশি ‘প্রয়োজনীয় সম্পদ মোতায়েনের প্রস্তুতি’র কথা এসেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। ফ্রান্সের এই বিবৃতি সংঘাতকে নিয়ন্ত্রণে আনার পরিবর্তে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন