প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ১১:৪৭ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ব্যালন ডি’অর জয়ের পর আবেগঘন বক্তব্যে স্ত্রী কেটি গুডল্যান্ড ও পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। সোমবার রাতে লন্ডনের প্যালাডিয়ামে পুরস্কার গ্রহণের পর ১০ মিনিটের বেশি সময় ধরে দেওয়া বক্তব্যে নিজের দীর্ঘদিনের সংগ্রাম, পরিবারের ত্যাগ ও সমর্থনের কথা তুলে ধরেন বায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকার।
কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিন ইয়ামালকে পেছনে ফেলে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন ৩৩ বছর বয়সী কেইন। ২৫ বছর পর প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে এই পুরস্কার জিতে তিনি দেশের ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়েছেন।
পুরস্কার গ্রহণের পর স্ত্রীকে উদ্দেশ করে কেইন বলেন, ‘আমার স্ত্রী কেটি, তুমি আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। আমাদের জীবনে ভালো ও খারাপ সময় দুটোই এসেছে। তুমিই আমার সবচেয়ে বড় সমর্থক। আমার মনে হয়েছে, তুমি হয়তো আমার চেয়েও বেশি করে এই পুরস্কারটি চেয়েছিলে।’
দীর্ঘ অপেক্ষার সময় স্ত্রীর উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের ফল জানার জন্য যে উদ্বেগের মধ্যে অপেক্ষা করতে হয়েছে, তা তোমার জন্য কতটা কঠিন ছিল, আমি জানি। অবশেষে সেই মুহূর্ত এসেছে। দেখো! আমরা পেরেছি! আমরা করে দেখিয়েছি! তুমি সব সময় আমার ভালো চাও। আমার স্বপ্ন পূরণে তুমি নিজের অনেক কিছু ত্যাগ করেছ। আমি জানি, এগুলো তোমারও স্বপ্ন। তোমাকে ছাড়া এটি সম্ভব হতো না।’
নিজের এই সাফল্যকে একক অর্জন হিসেবে দেখেন না কেইন। স্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘এই ট্রফি আমরা উদযাপন করব, শুধু আমি নয়। এটি আমার ও তোমার অর্জন। এটি পুরো পরিবারের এবং আমাদের ঘনিষ্ঠ দলের সবার অর্জন। তাই আমি শুধু তোমাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি তোমাকে ভালোবাসি।’
বক্তব্যের আরেক পর্যায়ে তিনি যোগ করেন, ‘আজ রাতে এই আনন্দ উপভোগ করতে এবং উদযাপন করতে আর তর সইছে না। তোমাকে ভালোবাসি।’
কেইন তাঁর বড় ভাই চার্লির প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ছোটবেলায় একসঙ্গে বাগান ও পার্কে ফুটবল খেলা এবং খেলা দেখতে দেখতে বেড়ে ওঠার স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ‘আজ রাতে আমার ভাই চার্লি এখানে আছে। মনে হয় না, খুব বেশি দিন আগের কথা, যখন আমরা বাগানে ও পার্কে ফুটবল খেলতাম। একসঙ্গে ফুটবল দেখতাম। ফুটবল নিয়েই কথা বলতাম। আমরা ফুটবল নিয়ে পাগল ছিলাম।’
ভাইয়ের সমর্থনের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘তুমি আমাকে বলো, আমার ফুটবল খেলার দক্ষতার অনেকটাই নাকি তোমার কাছ থেকে পেয়েছি। সে জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। বড় ভাইয়ের কাছ থেকে এমন ভালোবাসা ও সমর্থন পাওয়া আমার কাছে অনেক বড় বিষয়। তুমি ভ্রমণ করেছ, আমার খেলা দেখতে এসেছ। নিজের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ ছেড়ে আমাকে সমর্থন দিয়েছ। তোমাকে ধন্যবাদ।’
এরপর মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কেইন বলেন, ‘মা ও বাবা, তোমরাও এখানে বসে আছ। কী অসাধারণ একটি মুহূর্ত! এত বছর ধরে তোমরা আমার জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছ। আমাকে সমর্থন দিয়েছ। অনুশীলনে নিয়ে গেছ। ইংল্যান্ডের বিভিন্ন জায়গায়, জার্মানিতে এবং যেখানেই খেলা হয়েছে, আমাকে দেখতে এসেছ। এখনো তোমরা আমার পাশে আছো।’
ছোটবেলায় মা-বাবার কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ফুটবলার হতেই হবে, এমন কোনো চাপ তোমরা কখনো দাওনি। তোমরা সব সময় কঠোর পরিশ্রম করতে বলেছ। উন্নতি করতে বলেছ। নতুন কিছু শিখতে বলেছ। তোমাদের দেওয়া এই শিক্ষাগুলোই আমাকে সফল হতে সাহায্য করেছে। আজকের এই জায়গায় আসতে পেরেছি তোমাদের জন্য। আমি তোমাদের ভালোবাসি। অনেক ধন্যবাদ।’
কেইনের চার সন্তান আইভি, ভিভিয়েন, লুইস ও হেনরি বাড়িতে বসে অনুষ্ঠান দেখছিল। অনুষ্ঠান শেষ হতে দেরি হওয়ায় সন্তানদের ঘুমানোর সময় পেরিয়ে যাওয়ার কথা মজার ছলে উল্লেখ করেন তিনি। সন্তানদের উদ্দেশে কেইন বলেন, ‘তোমরাই আমার সবকিছু করার কারণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই ট্রফি বাড়িতে নিয়ে গেলে তোমরা হয়তো এর গুরুত্ব পুরোপুরি বুঝতে পারবে না। আমি আরও কিছু ট্রফি বাড়িতে নিয়ে আসব। তবে এটি বিশেষ একটি পুরস্কার। তাই তোমাদের সঙ্গে দেখা করতে এবং একসঙ্গে উদযাপন করতে আমার তর সইছে না।’
একজন বাবা ও পেশাদার ফুটবলার হিসেবে সন্তানদের সামনে ভালো উদাহরণ তৈরি করতে চান কেইন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি একজন বাবা হিসেবে ভালো উদাহরণ তৈরি করতে চাই। একই সঙ্গে একজন পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবেও। কঠোর পরিশ্রমের অর্থ কী, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখার অর্থ কী, তা তোমাদের দেখাতে চাই। আমি তোমাদের অনেক ভালোবাসি।’
সূত্র: উয়েফা, ইংল্যান্ড ফুটবল ও দ্য জার্নাল।
মন্তব্য করুন