প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৪:১৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশের কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) পরিদর্শনকালে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের কৃষি এখন আর লাভজনক কোনো খাত নয়। কৃষিকাজে পর্যাপ্ত আয় না হওয়ায় শ্রমিকেরা এ পেশা ছেড়ে যাচ্ছেন। ফলে মাঠে কাজ করার জন্য এখন কৃষক পাওয়া যায় না। তাই এই খাতকে লাভজনক করতে হবে।
কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, কৃষকদের প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং কৃষি গবেষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়লেও যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।’
আলুর উদাহরণ টেনে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলে প্রচুর আলু উৎপাদিত হলেও ঐ অঞ্চলের কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পান না। অনেক সময় তারা আলু রাস্তায় ফেলে দিতে বাধ্য হন। অথচ পরবর্তী সময়ে বীজ আলুর দাম বেড়ে যায়। একইভাবে উৎপাদনস্থল থেকে ঢাকায় পৌঁছানোর পর আলুর দাম অনেক বেড়ে যায়। অন্যান্য সবজির ক্ষেত্রেও এ সমস্যা রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু আলু নয়, টমেটোসহ অন্যান্য সবজি ও ফলমূল দীর্ঘদিন সংরক্ষণের উপযোগী কোল্ড স্টোরেজ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ প্রয়োজন।’ ফলের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপরও তিনি জোর দেন।
পেঁয়াজ উৎপাদনে গবেষকদের সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, একসময় পেঁয়াজ আমদানিতে বিপুল অর্থ ব্যয় হতো। এখন আমদানির প্রয়োজন না হওয়াটা ইতিবাচক।
কৃষিজমিতে অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, অতিরিক্ত সার মাটির ক্ষতি করছে এবং ফসলের গুণগত মান নষ্ট করছে। এ জন্য কৃষকদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি টেকসই কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
কৃষি গবেষকদের সুযোগ-সুবিধার প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষি বিজ্ঞানীরা যথাযথ সুযোগ-সুবিধা না পেলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের এ পেশায় আকৃষ্ট করা কঠিন হবে। কৃষি বিজ্ঞানীদের পেনশন-সংক্রান্ত বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে তিনি কৃষিমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কৃষি উন্নয়নে অবদানের কথাও স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, খাল খনন কর্মসূচি ও উচ্চফলনশীল ধানের বীজ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান দেশের কৃষিখাতে পরিবর্তন এনেছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, কৃষিবিদ ও কৃষি বিজ্ঞানীদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম রনি, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান, বারির মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল কাদির এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। বারির মহাপরিচালক স্বাগত বক্তব্য দেন এবং ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম তুলে ধরেন।
এর আগে সকাল ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ রাষ্ট্রপতি বারি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে বাংলাদেশ পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল তাঁকে গার্ড অব অনার দেয়। সবশেষে তিনি বারির জিন ব্যাংক ও বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ কেন্দ্র (পিজিআরসি) প্রাঙ্গণে তিনি বারি কাঁঠাল-৬ জাতের একটি চারাও রোপণ করেন।
মন্তব্য করুন